নিজস্ব প্রতিনিধি : শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের উপধ্যক্ষ জামায়াতে ইসলামী সামনের সারির নেতা জিএম আমির হোসেন কে প্রিন্সিপাল করার পায়তারা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাইদীর যুদ্ধাপরাধী মামলার রায়ের পরে দেশ জুড়ে যে সহিংসতা হয় তার অংশ হিসেবে শ্যামনগর যাবতীয় সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও কর্মকান্ডে জনবল নিয়ে প্রকাশ্য অংশ গ্রহণ করেন উপধ্যক্ষ আমির হোসেন। চালায় একের পর এক তান্ডব। কাটে শত শত রাস্তার গাছ। জুলুম অত্যাচার চালায় সাধারণ মানুষের উপর।
এছাড়াও প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালীন সময় আতরজান মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন আশেক ইলাহী। কিন্তু দলীয় ও গাজী নজরুলের প্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে কলেজের যাবতীয় কর্মকান্ড আমির হোসেন। এর মধ্যে অন্যতম কলেজের ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়। টেস্ট পরীক্ষা গণিত ও ইংরেজী বিষয়ে ফেল দেখিয়ে পরীক্ষায় না নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ হাজার অভিযোগ বেরিয়ে আসছে কলেজের উপধ্যক্ষ আমির হোসেনের বিবরুদ্ধে।
শ্যামনগর সদরের ৬৮ বছর বয়স্ক রুহুল আমিন জানান, উপধ্যক্ষ আমির হোসেন জানিয়েছে, তার প্রিন্সিপাল হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার লেনদেনসহ সব কাজ কাম প্রস্তুত রয়েছে। শুধু সরকারি বিধি বিধান অনুসরনের জন্য অপেক্ষায় আছে।
শ্যামনগর সদরের আনছার, মাহাবুব, লেয়াকাত, শওকাত, বিল্লাল মাসুম, রেজাউল, ও মুনসুর জানান, গাজী নজরুল এমপি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি গোপনে ও প্রকাশ্যে জামাতের যাবতীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন উপধ্যক্ষ আমির হোসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী বলেন, আমির হোসেনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানার নাশকতার মামলা নং ৪/৪০ তারিখ-০৮-০৩-২০১৮ ইং থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গৃহীত রয়েছে। সরকারি বিধানে রয়েছে জনপ্রতিনিধি ও চাকরীদারদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে বা আদালতে চার্জসিট গৃহীত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এবিষয়টি নিয়ে কেহ অভিযোগ করলে তার প্রিন্সিপাল হওয়াতো দুরের কথা, চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হতে পারে। শ্যামনগর থানার তৎকালীন এসআই আকরাম হোসেন বাদী হয়ে শ্যামনগর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আমির হোসেনসহ ৩০ জনকে আসামী ০৮/০৩/২০১৮ ইং তারিখ রাত ১.৪৫ ঘটিকায় খোলগামী গাংআটি ব্রিজের নিকট নাশকতা চালানোর জন্য দেশী বিদেশী অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে পৌচ্ছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি শক্তিশালী বোমা বিষ্ফরন ঘটায়। পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে বিষ্ফোরিত বোমার অংশ ও বিভিন্ন অস্ত্র সস্ত্র উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নাশকতা ও রাষ্টদ্রোহীর অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে। তবে এই সমস্ত সব অভিযোগ মিথ্যা ষড়যন্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছে আমির হোসেন।
উল্লেখ সাতক্ষীরা জেলার
শ্যামনগরে আতরজান মহিলা মহা বিদ্যালয়ে প্রিন্সিপাল পদে ঐ কলেজের উপধ্যক্ষ জামায়াত ইসলামী সংগঠনের অন্যতম নেতা জি এম আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সরকারি জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের নীতিমালা মোতাবেক শ্যামনগর আতরজান কলেজের পিন্সিপাল শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ২০ অক্টোবর সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে প্রিন্সিপাল পদে আগ্রহীদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ঐ কলেজের এসএম আফজালুল হক ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জামায়াত নেতা, অত্র কলেজের উপধ্যক্ষ জিএম আমির হোসেন কে প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ দেওয়ার সব প্রস্তুতি অনানুষ্ঠিকভাবে চুড়ান্ত করেছেন। এখন শুধু মাত্র সরকারি আইন জায়েজ করতে লোক দেখানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। প্রতক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত বিএনপি জোট সরকারে ক্ষমতা থাকা কালীন তখনকার জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে যাবতীয় কাজ করেছেন এই উপধ্যক্ষ। গাজী নজরুর এমপি-র রাজ নৈতিক কর্মকান্ড থেকে যাবতীয় গোপন লেনদেন ও শালিশ বিচারের দায়িত্ব ছিলো আমীর হোসেন এর উপর। যা প্রতিটি মানুষের জানার বাইরে নয়।
এতদিন মানুষের মুথ বন্ধ থাকলেও আমীর হোসেনকে প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগের কথা এলকায় ছড়িয়ে পড়লে একের পর এক বেরিয়ে আসছে আমীর হোসেনসের কু কর্মের লোম হর্ষক কাহিনী।
এদিকে শ্যামনগর থানা সূত্রে জানা যায়, শ্যানগর থানার মামলা নং-৪/৪০ তারিখ-০৮-০৩-২০১৮ ইং মামলার ২০ নং আসামী এই আমীর হোসেন। বর্তমান মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমীর হোসেনের বিরুদ্ধে এই মামলা আদালতে চার্জ গ্রহীত হয়েছে। অন্য দিকে দেখা যায়, গত ২৪/১০/২০০৩ সালে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কাফেলা পত্রিকার এক খবরে প্রকাশ পায় গাজী নজরুল এমপির সাথে জিএম আমীর হোসেনের গোপন বৈঠক হয়েছে।
এ ব্যপারে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আতরজান মহিলা কলেজের সভাপতি শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলনের চাচা এস এম আফজালুলছ হকের সাথে। তিনি বলেন, আমার তো কোন অভাই নাই, যে ওই টাকার দরকার। তাছাড়া আমাকে কেউ বলতে পারবে না, আমি কারো কাছ থেকে কোন কাজের বিনিময় ঘুস গ্রহণ করেছি। আর কলেজের প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমি লোক মুখে শুনেছি, আমির হোসেন জামায়াতপন্থী কিন্তু, কোন জামায়াতের কমিটিতে নাম আছে কিনা জানিনা। এব্যপারে অভিযুক্ত উপধ্যক্ষ জিএম আমির হোসেন বলেন, আমি পূর্বে জামায়াতের সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু, বর্তমানে আর করিনা।
আমাকে প্রিন্সিপাল হতে দেবেনা বলে একশ্রেণির কুচক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা নাশকতার মামলা নিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সাথে। তিনি বলেন, অভিযোগটি সবে শুনলাম। বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে যাচাই কারার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অভিহিত করব।


