শহীদ স ম আলাউদ্দীন: মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে

109
শহীদ স ম আলাউদ্দীন। ফাইল ছবি

মো. জাবের হোসেন ।। শহীদ স.ম আলাউদ্দীন নামটি সাতক্ষীরা জেলার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে। আপামর জনসাধারণের জন্য তিনি ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। নিজের জন্য তিনি কখনো চিন্তিত ছিলেন না, সবসময় চিন্তা করতেন জনগন নিয়ে। তিনি সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শহীদ স.ম আলাউদ্দীন ১৯৪৫ সালের ২৯ শে আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমে দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র সংগ্রহ যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
কিন্তু ঘাতকের বুলেটের আঘাতে মাত্র ৫০ বছর বয়সে নিজ পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে রাত ১০:৩০ মি: শাহাদাৎ বরণ করেন।

শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৬২ সালে এসএসসি পাশ‌ করেন এবং ১৯৬৪ এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৭-১৯৭৫ সালে বি এল কলেজ থেকে বিএ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে প্রথম ছাত্রলীগের যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রাখেন। তিনি অস্ত্র সরবরাহ এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়োজিত ছিলেন।

এরপর থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা শুরু করেন। অস্ত্র প্রশিক্ষণ-এর সাথে সাথে তিনি এই মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি এই মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন হওয়ার পরে সাতক্ষীরাই গণমানুষের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন শাখা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। তার সাথে সাথে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং সাতক্ষীরা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সাতক্ষীরা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। সেজন্য তিনি গণমানুষের নেতা হিসাবে পরিচিতি পান।
তিনি সবসময় জনগনের জন্য চিন্তা করতেন। সেজন্য তিনি সাতক্ষীরা উন্নয়নে এবং গণ-মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যাল, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজ, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা, ভোমরা স্থলবন্দর, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে জনমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

কিন্তু কিছু মানুষ তার সাফল্যে ইর্ষান্বিত হয়ে উঠে-পড়ে লেগে যান কীভাবে তাকে দমানো যায়। কীভাবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটানো যায়। সেই চিন্তা থেকে ঘাতকেরা তাকে হত্যা করেন। তার মৃত্যুর এতদিন পরেও সাতক্ষীরার মাটিতে হত্যাকারীদের বিচার এখনো হয়নি। তবে আমরা তরুণ প্রজন্ম এই আশাবাদী যে, খুব দ্রুতই শহীদ স.ম আলাউদ্দীনের হত্যাকারীদের বিচার হবে।

তিনি বেঁচে থাকলে আমরা দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিশালী জেলায় এতদিনে পরিণত হতে পারতাম। আধুনিক সাতক্ষীরার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন সেটির বাস্তবায়ন এতদিনে হয়ে যেতো। তার মৃত্যুর পর সাতক্ষীরা উন্নয়ন থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। তবে তার আধুনিক সাতক্ষীরা গড়ার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা লায়লা পারভীন সেঁজুতি। বাবার অসম্পূর্ণ কাজ হয়তো তার হাত ধরে একদিন সম্পূর্ণ হবে বলে আমরা মনে করি।

তিনি সবসময় মনে করতেন জনগনের সেবা করার মাধ্যমে প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। তাই তিনি একের পর এক যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন জনগনের জন্য কাজ করে গিয়েছেন।
পরিশেষে এটুকু বলবো, সাতক্ষীরার মাটিতে শহীদ স.ম আলাউদ্দীনের খুনিদের বিচার যাতে দ্রুত হয় তার জন্য আমরা আশাবাদী।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, লাল সবুজের কথা।