যশোর-৬ উপ-নির্বাচনে বিএনপির ৫ প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ

30

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি : যশোর-৬ কেশবপুর আসনে উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকার প্রার্থী হিসেবে শাহিন চাকলাদারের নাম চূড়ান্ত ঘোষনার পর এই শূন্য আসনে নৌকার প্রতিপক্ষ হয়ে নির্বাচন করতে বিএনপি’র ৫ প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

গত ২১ জানুয়ারী যশোর-০৬-কেশবপুর আসনের প্রয়াত এমপি, সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুর পর এ আসনটি শুন্য হওয়ায় পর থেকে এ আসনে নৌকার মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে চলছিল চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা। গত ১৫ ফেব্রয়ারী রাতে মনোনয়ন বোর্ড শেষে যশোর-৬ কেশবপুর আসনে যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদারকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষনার পর কেশবপুরে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।

এদিকে জাতীয় সংসদীয় আসন ৯০ যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে ৪ প্রার্থীর দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীরা হলেন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ,বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর পৌর সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হুমায়ুন কবীর সুমন।

অপর দিকে কেশবপুর উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব দলীয় মনোনয়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।

উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও এখনও পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ না আসায় নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জাতীয়পার্টির সম্ভব্য প্রার্থীদের দেখা যাচ্ছে না।

সদ্য ঘোষিত যশোর-০৬ আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহিন চাকলাদার বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভান্ত্রেী দেশরতœ শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় যশোর জেলা ও কেশবপুরবাসীর সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।২৯ মার্চ উপ-নির্বাচনে কেশবপুরের সকল আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ করে ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তিকে একত্রিত করে একটি ফেয়ার ও প্রতিদ্ব›িদ্বতা মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অমলেন্দু দাস অপু বলেন, সুখে-দুখে দলের সাথে আছি, বিএনপি দলীয় মনোনয়ন ফরম ছাড়লেই কেশবপুর উপ-নির্বাচনের জন্য ফরম সংগ্রহ করব। মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মনোনয়ন দিলে জনগনের ভোটারাধিকার ফিরিয়ে আনতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করব আব্দুস সামাদ বিশ্বাস বলেন,বিএনপি একটি বৃহৎ সংগঠন। বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে কেশবপুরে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছি,ভবিষ্যতে কেশবপুরে বিএনপির সংগঠনকে ঐক্যবন্ধ রাখতে গত নির্বাচনের ন্যায় এবারো দল থেকে মনোনয়ন চাইব। বিএনপির আরেক প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ দেশের বাইরে থাকাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হুমায়ুন কবীর সুমন বলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আমার নেতৃতে রবিবার বিকালে কেশবপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছিলো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করবো।

জাতীয়পার্টির হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জাতীয়পার্টি জাতীয় সংসদের বিরোধী দল, গত নির্বাচনে এই আসন থেকে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল, এবারো যদি আমাকে দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করব।

দেশ স্বাধীনের পর কেশবপুর আসনে সর্বপ্রথম এম এন এ নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত সুবোদ কুমার মিত্র, ১৯৭৩ সালে অবিভক্ত কেশবপুর, মনিরামপুর অঞ্চরে সংসদ নির্বাচিত হন বর্তমান আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালীম, ১৯৮৮ সালে অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, ১৯৯১ সালে জামায়াত থেকে মাওলানা সাখাওয়াৎ হোসেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এ.এস.এইচ.কে. সাদেক, ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন এ.এস.এইচ.কে. সাদেক, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত শেখ আব্দুল ওহাব, ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত ইসমাত আরা সাদেক ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে ইসমাত আরা সাদেক আওয়ামীলীগ থেকে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ বজলুর রশীদ বলেন, আগামী ২৯ মার্চ কেশবপুর উপ-নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ মোতাবেক ভোটারদের নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হবে। এ আসনের মোট ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫শত ৬৯জন।