যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ২২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী

230
যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ২২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী
যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ২২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ যশোর-৬ কেশবপুর আসনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ২২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ-১১, বিএনপি-৯, জাতীয় পার্টি-১ ও জামায়াত-১। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। কেশবপুর ৬ এই উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নে সর্বশেষ ভোটার সংখ্যানুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫শ ৩৪ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ৯৭ হাজার ১শ ১ জন, ও মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৪ শত ৩৩ জন। এই হিসেবে মহিলা ভোটার অপেক্ষা পুরুষ ভোটার ৬৬৮ জন বেশী। কেশবপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়ন গুলি হলো ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ি, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, কেশবপুর সদর, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, সাতবাড়িয়া ও হাসানপুর।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ৯ নভেম্বর শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা ঢাকায় ছুটেছিলেন। ফলে কেশবপুরে সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয় কে কে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এবং কারা মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন। যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগের টিকিটে নির্বাচন করার লক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১১ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমা দিয়েছেন।

বিএনপির ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ১ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ক্রয় করে জমা দেন।

দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার প্রত্যাশায় তারা এই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পরেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ঢাকায় যেয়ে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সাংসদ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলার মির্জানগর গ্রামের কৃতি সন্তান রাজধানীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ আব্দুর রফিক, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম,

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, কেশবপুর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলার বাউশলা গ্রামের কৃতি সন্তান রাজধানীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আব্দুল মান্নান, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক উপজের্লা কাবিলপুর গ্রামের ড. তাপস কুমার দাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. হোসাইন মোঃ ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ,

যশোর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, কেশবপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর মশিয়ার রহমান, কেশবপুর থানা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান তপন, কেন্দ্রীয় সেচ্ছা সেবক দলের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোকছেদ আলম।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন জাতীয় পার্টির জেলা সহ-সভাপতি ও কেশবপুর উপজেলা সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদ এবং জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী জামায়াত ইসলামের উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মুক্তার আলী। যশোর-৬ কেশবপুর আসনটি জেলার ভি আইপি আসন হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। যশোর ৬ কেশবপুর আসন থেকে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নৌকা প্রার্থী এএস এইচকে সাদেক শিক্ষামন্ত্রী হন এবং ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত নৌকা প্রার্থী হয়ে তিনি এমপি হন। অপরদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব জাতীয় সংসদের হুইপ হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর এএস এইচকে সাদেক এর সহধর্মিনী ইসমাত আরা সাদেক নৌকার প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি দেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীত্ব লাভ করে বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।

যেকারনে যশোর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে এই আসনটিকে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। পাকিস্তানের শেষ সময় ১৯৭০ সালে কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগর তিন থানা মিলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হন সুবোধ মিত্র, ১৯৭৩ সালেও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন পিযুষ কান্তি ভট্রাচার্য্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন গাজী এরশাদ আলী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওই সময়কার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন, ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে জাতীয় পার্টির এ্যাড.আব্দুল কাদের নির্বাচিত হন এবং তিনি যশোর জেলা চেযারম্যান হন।

১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। যশোর-৬ কেশবপুর আসনটি থেকে নির্বাচনে নৌকার প্রত্যাশী ব্যক্তির সংখ্যাপ্রতিবারই বেশী হয়ে থাকে। এবার ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে এখানে আওয়ামীলীগের প্রতিদ্ধন্ধী আওয়ামী লীগ। প্রায় বছর তিনেক আওয়ামীলীগের মধ্যে দুটি পক্ষ থাকার কারণে যশোর ৬ আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বেশী। অপরদিকে এবার বিএনপির প্রতিদ্ধন্ধী বিএনপি থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন।