মায়ের আত্মহত্যায় ছোট্ট শিশু হাফসার বুকফাটা আর্তনাদ থামানো যাচ্ছে না!

10
মায়ের আত্মহত্যায় ছোট্ট শিশু হাফসার বুকফাটা আর্তনাদ থামানো যাচ্ছে না!

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় নিজ শয়ন ঘর থেকে কেয়া (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ গনেশপুর ইউ’পির শ্রীরামপুর গ্রামের কীটনাশক ব্যাবসায়ী জেকের আলীর পুত্র শামীমের স্ত্রী। শামীমেরা দুই ভাই শামীমই বড় আর সুমন ছোটো সে বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলাস্থ একটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। সে ওখানেই থেকে পড়াশুনা করে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শয়ন ঘরের দরজা বন্ধ করে সেলিং ফ্যানের সাথে দড়ি লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে কেয়া। সে খুব শান্ত প্রকৃতির ছিলো বলে জনান নিহতের শাশুরি শাহনাজ। তিনি আরো জানান যে, তার ছেলেকে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর পূর্বে নওগাঁ শহরের জনকল্যাণ-ইদুর বটতলী এলাকায় বিয়ে করিয়েছেন। ছেলের বৌ কে নিজের মেয়ের মতোই দেখতেন। আর তার ছেলে শামীম ও তার বৌকে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তু কেউ কখনো ভাবতেই পারেনি যে তাদের বৌমা এমন কাজ করতে পারবে।

তাদের ঘরে ১৪ মাস বয়সী হাফসা নামের একটি মেয়ে আছে। তাকে চিরোদিনের জন্য মায়ের মায়া মমতা থেকে বঞ্চিত হতে হলো। বড়ই দু:খের বিষয় সে আর কখনোই মাকে মা বলে ডাকতে পারবে না। বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। কিন্তু করার কিছুই নেই। এটি নিয়তির নির্মম পরিহাস। কেনোনা, কখন কোথায় কিভাবে কার মৃত্যু আছে বলা তো,যায় না। হায়াৎ মউতের দুনিয়ায় সত্যিই এটি বলা মুশকিল। সবই তকদির। তবে আর যাই হোক না কেনো? আত্মহত্যা মহাপাপ। আর এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের ছোট্ট শিশু হাফসার বুকফাটা আর্তনাদ থামানো যাচ্ছে না।

ঘটনার শামীম এবং তার বাবা সতিহাট বাজারে তাদের কীটনাশক ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলে জানান নিহতের শাশুরী শাহনাজ। রাতে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তাদের সন্দেহ হলে তারা ডাকাডাকি করেও ঘরের ভিতর থেকে নিহত কেয়া কোনো সাড়া না দেওয়ায় তাদের বাড়ির লোকজন এবং স্থানীয়রা মান্দা থানা পুলিশকে খবর দিলে ওই রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা এসে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

এব্যাপারে মান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি শোনার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। রিপোর্ট পাবার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োগজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত কেয়া’র লাশ ময়না তদন্ত শেষে কবরস্থ করা হয়েছে।