মহান বিজয় দিবসে তারুণ্যের ভাবনা!

26

এইচ টি হাবীব

বিজয় দিবস! মহান দিবস!সোনার বাংলার আকাশে বাতাসে বইছে বিজয়ের গান, বাংলার আকাশ আজ মুখরিত নানা দেশত্ব বোধক গানে, মুখরিত জাতির পিতার মন্ত্রমুগ্ধ জ্বালাময়ী ভাষণে, মুখরিত শহিদ সহস্র বাঙ্গালির স্মরণে। চারিধারে বইছে বিজয়ের শুভেচ্ছা বিনিময়। বাংলার আনাচেকানাচে উৎযাপিত হচ্ছে দিবসটি অতি উৎফুল্ল মনে। স্বাধীনতার, বিজয়ের ৪৮ বছরেও আমরা স্বাধীন কিংবা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি কি? চলুন একটু পর্যালোচনা করি তাহলে উত্তরটা পেয়ে যাব।

৭১ এর আজকের কেলেণ্ডার তারিখে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে পরিপূর্ণ ভাবে স্বাধীনতা বা কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করার মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে জন্ম লাভ করে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। পুনঃজন্ম হয় নতুন এক জাতির, অর্জিত হয় স্বাধীন একখানা রক্ত রঞ্জিত পতাকা।

কাগজে কলমে বিজয়ী জাতি বাঙ্গালী তার পুরষ্কার স্বরুপ হারায় তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। এটাই হয়তো স্বাধীনতা! পরাজিত শক্তিরা পুনরায় মাথা চড়া দিয়ে উঠে এটাই হয়তো বিজয়! যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশটিকে চেটেপুটে খাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া হয়তো বিজয়ের উদ্দেশ্য! সর্বাবস্থায় দুর্নীতির কালো ছায়াই স্বাধীনতার মুল অর্জন!

বিজয়ের ৪৮ বছর পরেও জাতির শ্রেষ্ঠ মহা পুরুষের হত্যাকারীদের শাস্তি না হওয়া ও একরকম বিজয়! স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর এই দেশের শাসন কার্যে আসিন হওয়াটাই বিজয়ের ফল! নিজ স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বা স্বার্থ সিদ্ধির বিপরীতে অন্যের সার্থ পুরন এটাই সার্বভৌমত্ব! সরকারি কাজের প্রতিটা সেক্টরে ঘুষ, দুর্নীতির কালো ছায়া, রাঘব বোয়ালদের হঠকারিতা, অযোগ্যলোকের টাকার জোরে রাষ্ট্রিয় কাজে নিয়োগ, গরিবের চামড়া চিড়ে ধনিক শ্রেণির ধনবৃদ্ধি এসবি বিজয়ের ফল!আমরা নিজেদের স্বাধীন জাতি বলে পরিচয় দেই, গর্বের সাথে বুক চেতিয়ে, গলা ফাটিয়ে, সিংহের ন্যায় হুঙ্কার ছড়িয়ে বলতে পারছি আমরাই একমাত্র জাতি যারা অত্যাচারী শাষকগোষ্ঠীর হাত থেকে যুদ্ধ করে, রক্ত ঝরিয়ে বিজয় অর্জন করি।

অথচ বাস্তবিক পক্ষে বিজয়ের ৪৮ বছরেও আমার বোন রাস্তায় একা বের হওয়ার সাহস পায় না, সাবালিকা থেকে নাবালিকা কেউ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। পাক হানাদার বাহিনী যেমন আমার মা বোনকে মানসিক, শারীরিক নির্যাতন করেছিল তেমনি আজকের মা বোনেরাও তেমনি নির্যাতনের শিকার। হানাদার বাহিনী যেমন আমার মা বোনের যৌন পথে অস্র চালাতো বিজয়ের ৪৮ বছর পরও আমার বোনের যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কাটা হয়। বাবার হাতে নিজের মেয়ের ধর্ষণ, শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষণ কিংবা শারীরিক, মানসিক অত্যাচারের স্বীকার,, মানুষের কাছে অবলা পশু ধর্ষণ এটাই স্বাধীনতা! এটাই বিজয়!

আজও দর্ষণের নির্দিষ্ট কোন বিচার নেই বা এক আদালতে বিচার হলে রয়েছে আপিলের মত প্রহোসন এটাই হয়তো স্বাধীনতার অর্জন। নেই বাক স্বাধীনতা, দেশের স্বার্থে আওয়াজ তুল্লেই আবরারের মত হতে হয় শহিদ, সাগর-রুণি, আসাদের মত শত শত যুবক রাজপথে ঘাতকদের অস্ত্রের বলি এটাই স্বাধীনতার পরিচয়!

যে দেশে ধর্ষকের পক্ষে আইনজীবী পাওয়া যায় সে দেশ সত্যি কি স্বাধীন? সত্যি কি তারা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে? এমন হাজারো প্রশ্ন রয়ে যায় এই মহান বিজয়ের উত্তরীয় তলে।

বিজয়ের ৪৮ বছর পরেও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে পিতার কথার পুনরাবৃত্তি করতে ইচ্ছে হয়।

#বাংলার_মানুষ_বাঁচতে_চায়

#বাংলার_মানুষ_স্বাধীনতা_চায়

#বাংলার_মানুষ_তার_অধিকার_চায়

লেখক: এইচ টি হাবীব, শিক্ষার্থী – বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়