মনোলোভা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়,বার্ড ও শালবন বিহার

মো. জাহানুর ইসলামঃ দীর্ঘ সময় ধরে নগর জীবনে বন্দী থাকতে ইচ্ছা হয় না কারোরই। মাঝে মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা মেটানোর কোন সুযোগ এলে কেউ তা সহজে হাতছাড়া করতে চায় না।আমরাও তা করিনি।

গত ২৩ মার্চ ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের ব্যানারে গ্রুপের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ ও রোভার স্কাউট লিডার জনাব মাহমুদুর রহমান স্যারের নেতৃত্বে বার্ষিক শিক্ষা সফরের অংশ হিসাবে আমরা পাহাড় ও টিলাময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শালবন বিহার ও বার্ডে ভ্রমণ করি।

সকাল ৭:৩০ মিনিটে আমাদের বাস টিএসসি থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়।দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা ভ্রমণ শেষে সকাল ১০:০০ টায় আমরা আমাদের গন্তব্যেস্থলে পৌঁছাই।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছা মাত্রই সেখানকার রোভাররা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়,যা আমাদেরকে মুগ্ধ করে।বিশ্ববিদ্যালয় অঙিনায় পা দেওয়া মাত্রই বুঝতে পারি এই বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে একদম আলাদা।বাস থেকে নেমে ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে ছোট্ট একটি পাহাড়।পাহাড়ের আর একটু কাছাকাছি যেতেই দেখতে পাই এর নিচের রয়েছে সাদা আর বাদামি রঙের একটি মসজিদ, যার ভেতরটা আরও চমৎকার।শুধু তাই নয়, পাহাড়ের পাদদেশ রয়েছে শহীদ মিনার।এগুলোর শৈল্পিক সৌন্দর্য আমাদের মনকে বিমোহিত করে যার স্পষ্ট ছাপ চোখে মুখে ফুটে ওঠে।আমরা সবাই দল বেঁধে সিঁড়ি বেয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ওঠি।সবাই একত্রে ক্যামেরাবন্দী হই।

সেখানে পাশাপাশি দুটি ফলক সবার দৃষ্টিগত হয়, যা মাতৃভাষার স্মৃতি বহন করে। এর পাশেই রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। তার উত্তর দিকে আবার পাহাড়।পাহাড়ের ওপর আকাশচুম্বি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল।যা আমাদের মনে শিহরণ জাগিয়ে তোলে।যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আমরা হাঁপিয়ে ওঠেছিলাম, সেই সৌন্দর্য এখানে অবলোকন করে আমার দারুণ রোমান্সিত হয়ে পড়ি।সব কিছু দেখে মনে হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

ঘড়ি কাটা যখন ঠিক দুপুর ২ টা বেজে ৩০ মিনিট তখন আমরা লাঞ্চ সেরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করি।সেখানকার ভিতরের গাছ-গাছালী শোভিত দৃশ্যাবলী সবাইকে মুগ্ধ করে। সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় হঠাৎ করে যেন সবাই ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যাই।সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করার পর চলে আসি প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক নির্দর্শন বৌদ্ধবিহার দেখতে।অষ্টম শতকে নির্মিত এই প্রত্নসম্পদের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে যাই।দিনব্যাপী দৃষ্টিগত হওয়া সকল ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থাপনা দেখে সবাই এটা বুঝতে পেরেছি যে, প্রাচীনকাল থেকেই কুমিল্লা অঞ্চল ছিল শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ।

সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।আমাদের জন্যেও করেনি। সূর্য্যি মামা যখন পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে তখন শুরু হয় আমাদের ঘরে ফেরার তোড়জোড়।সন্ধ্যা ৭:০০ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।আসার পথে অনেকেই মনের আনন্দে গুণগুণিয়ে গান ধরি “এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হত তুমি বলত?”

error: লাল সবুজের কথা !!