মণিরামপুরে শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে

35

আজিজুর রহমান, মনিরামপুর থেকে ফিরে: মণিরামপুরে শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। যেকোন মূহুর্তে ফাটল ধসে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা।

বুধবার দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সু-সম্মানের সাথে চলে আসছে। বিদ্যালয়টিতে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। ওই বিদ্যালয়টির ২ টি ভবনে ৯ টি শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে একটি ভবনের ৫ টি শ্রেণীকক্ষই ঝুকিপূর্ণ।

শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়–য়া রাসেল পারভেজ, তারভির আহম্মেদ, ইয়াসমিন আরা, নাদিয়া সুলতানা তন্দ্রা, নবম শ্রেণীতে পড়–য়া মাইয়া তাসমিন ঐশি, আবু রায়হান ও ইকতিয়ার আহম্মেদ জানায় আমরা ঝুঁকির মধ্যে লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে শ্রেণীকক্ষের দেয়ালের চলটা উঠে আমাদের গায়ে এসে পড়ে। বৃষ্টির সময় শ্রেণীকক্ষে পানি পড়ায় আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারিনা। শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব, সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ রমিছা খাতুন ও সহকারী শিক্ষক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এই শ্রেণীকক্ষ গুলি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুকি নিয়ে আমরা সময়মত শিক্ষার্থীদের পাঠাদান করে চলেছি। যেকোন সময় ওই ভবনের শ্রেণীকক্ষ গুলি ধসে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুকি নিয়ে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। ভবনগুলি সংস্কার করার জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ঝুকিপূর্র্ণ শ্রেণীকক্ষ গুলি দেখে গেছেন। আমরা দ্রুত শ্রেণীকক্ষ গুলি সংস্কার করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ভবনের শ্রেণীকক্ষের ফাটলের ব্যাপারে শুনেছি। খুব শীঘ্রই সরেজমিনে যাওয়া হবে।