সর্বশেষ সংবাদ

ভবিষ্যতের বীজ রোপিত হউক শুরু থেকেই

সিকদার মোহাম্মদ জাকারিয়াঃ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছারপত্র থেকে, এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান!!নতুন বার্তা নিয়ে, নতুন প্রত্যয়ে জীর্ণ, শীর্ণ ও ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আজ নতুনের আগমন। তাদের জানাই শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে বীরের বেশে আজ আপনাদের পদচারনা এমন এক সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উৎযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৯২১ সাল থেকে একটু একটু করে এগিয়ে আজ শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে। তেমনি দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। প্রাচীন সকল পদ্ধতির ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন নানা ধরনের দক্ষতার (skills)।

একটি সময় ছিল যখন শুধু ভালো পড়াশুনাই একটা ভালো জায়াগায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু বর্তমানে পড়াশুনার পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হয়। আর এই দক্ষতা অর্জন করার জন্যে পড়াশুনার পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্ন ধরনের সহ- শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রাখতে হয়। যা নিজের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আমরা শুধুমাত্র নিজের বিভাগের বাহিরে অন্য কারো সাথে মিশতে চাই না বা মেশা হয় না। তখন আমরা শুধু ক্লাস আর হল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাই। ফলে আমাদের মধ্যে একধরনের একাকীত্ত্ব কাজ করে। কিন্তু যদি আমরা কোন ক্লাব বা সোসাইটির সদস্য হই ও নিয়মিত ঐ ক্লাবের কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করি তবে আমাদের ডির্পাটমেন্টের বাহিরেও একটা সার্কেল হবে। যা আমাদেরকে একটা নতুন দিগন্তের সন্ধান দিবে। যা আমাদের জ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের শুধু পড়াশুনা দিয়েই চলছে না। বর্তমান চাকরির বাজারের প্রতিযোগীতার দিকে একটু তাকালে দেখা যায় যে, প্রতিটি পোস্টের জন্যে অসংখ্য প্রার্থী আবেদন করে । শুধু মাত্র ৪০তম বিসিএস এ প্রায় চার লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছে। সুতরাং আমাদের শুধুমাত্র একাডেমিক পড়াশুনা দিয়ে এই প্রতিযোগীতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা প্রমাণ করার জন্যে নিজের কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তার জন্যে প্রয়োজন কোন সোসাইটি বা ক্লাবের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে যাওয়া।

আমরা নিশ্চয়ই “Soft Skills” শব্দটার সাথে পরিচিত। এটাকে 21st Century Skill ও বলা হয়। এই দক্ষতাগুলোর (Skills) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেঃ Communication; Teamwork and Organizing; Technology; Management; Negotiation; Leadership; Positive Attitude;Adaptability; Creativity; Mentoring; Networking; Sensitivity; Patience; Tolerance; Time Management ইত্যাদি।

হার্বাট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় (“Pathways to Prosperity Project”, Study in 2011, U.S.) দেখা গেছে যে, বর্তমান গ্র্যাজুয়েটদের ন্যূনতম কিছু দক্ষতা থাকা দরকার। যেমনঃ Critical Thinking; Problem Solving; Creativity and Communication. [www. Parenttoolkit.com]

এই সকল দক্ষতা অর্জনের জন্যে আমাদের বিভিন্ন ক্লাবগুলোর সাথে সংযুক্ত হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে এ ধরনের অসংখ্য ক্লাব বা সোসাইটি রয়েছে। যেমনঃ

মানবতার সেবায় কাজ করার ইচ্ছা মানুষের সহজাত প্রভৃতি। মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ। নিজেকে এখানে যুক্ত করে নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে পারেন। রেড ক্রিসেন্টও মানুষের জন্যে কাজ করে থাকে। যদিও এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেই তবুও অনেক ছাত্র-ছাত্রী কেন্দ্রীয় ইউনিট ও ঢাকা জেলা ইউনিটের আন্ডারে কাজ করে থাকে। বিএনসিসি ও শুধু মেয়েদের জন্যে রেঞ্জারও রয়েছে।

আমাদের অনেকেরই সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা থাকে। যারা সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হতে চাই তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সোসাইটি রয়েছে। তারা এখানে যুক্ত হয়ে নিজেকে বিকশিত করতে পারেন। এখানে দেশের অনেক বড় বড় সাংবাদিকের সহচার্যে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারবেন।

ভ্রমন করতে কার না ভালো লাগে। নতুন নতুন জায়গায় যেমন মজাও আছে তেমনি যদি সঠিক দিক- নির্দেশনা না পাওয়া যায় তবে বিপদের আশঙ্ক্ষাও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটি প্রায় প্রতি মাসে ও বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে ট্যুরের আয়োজন করে থাকে। যার ভ্রমনে ইচ্ছা আছে সে চাইলে এর সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ট্যুরে যাওয়া ও আয়োজনে থাকার সুযোগ পাবেন।

ফ্লিম সকল যুগে সকলেরই আকর্ষণের বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লিম সোসাইটি ফ্লিম নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে থাকে। ফলে সেখান থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।

সোসালাইজেশনের এই যুগে ফোটোগ্রাফির গুরুত্ব অনেক। কোন ছবিটা কোন দিক থেকে ক্লিক করলে অনেক লাইক পাব সেই বিষয়গুলো অর্জন করার বিষয়। তাই অনেকের ফোটোগ্রাফি আগ্রহের বিষয়। যারা ফোটোগ্রাফি করতে ইচ্ছুক তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোটোগ্রাফি সোসাইটি একটি ভালো মাধ্যম। তাছাড়া যারা কালচারাল বিষয়ে ভালো ও কাজ করতে ইচ্ছুক তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির সদস্য হতে পারেন।

ডিবেটিং এর সাথে কম বেশী সবাই পরিচিত। এখন ডিবেটিং স্কুল পর্যায়েও হয়ে থাকে। অনেকেই স্কুল বা কলেজ থেকে ডিবেটিং করে আসে। তাদের পথ চলা আরো শক্তিশালী করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাব রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি হলেও ডিবেটিং ক্লাব রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই কোন না কোন ডিবেট প্রোগ্রাম চলতেই থাকে। এখানে এসে নিজের বুদ্ধি ও যৌক্তিক শক্তিকে আরো বৃদ্ধি করতে পারবেন। এগুলো ছাড়াও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই বিভাগীয় বিতর্ক সংগঠন বা ক্লাব রয়েছে। যেমনঃ দর্শন বিতর্কধারা

আমরা প্রত্যেকেই রক্ত দিয়ে থাকি। কেউ ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবার কেউ কোন সংগঠনের মাধ্যমে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঁধন এমনই একটি সংগঠন। যার শাখা প্রতিটি হলেও রয়েছে। আমরা নিজেদের এর অন্তর্ভূক্ত রেখে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারি। তাছাড়া “Thirst for Knowledge Leads to Wisdom” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুইজ সোসাইটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের তৃষ্ণাকে দূর করছে। আবার অনেকে রিসার্চ করতে আগ্রহী থাকে। তাদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তথ্য- প্রযুক্তিতে আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি রয়েছে।

বর্তমান সময়ে মান (MUN) তথা ছায়া জাতিসংঘ অনেক বেশী প্রচলিত। কেউ যদি ছায়া জাতিসংঘের সোসাইটিতে যুক্ত হতে ইচ্ছুক থাকেন তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন এসোসিয়েশন রয়েছে। যেখানে জাতিসংঘের অনুরূপ ভাবে প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। তাছাড়া সম্প্রতি ছায়া ওআইসি (OIC) সোসাইটিও প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। যারা ওআইসি (OIC) নিয়ে জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ওআইসি নামে সোসাইটি রয়েছে।

সাহিত্য নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লিটারেচার সোসাইটি রয়েছে। সেখানে অনেক সাহিত্যমনা ছাত্র- ছাত্রীদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের অনেকেরই লেখালেখিতে আগ্রহ থাকে কিন্তু আমরা সাহসের অভাবে বা উৎসাহের অভাবে তা প্রকাশ করতে পারি না। তাদের জন্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা রয়েছে। যেখানে আমাদেরই বন্ধু- বান্ধবেরা বিভিন্ন বিষয়ে লিখছে ও সেইগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করছে। কারো এমন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে সেই সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন।

এগুলো ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের দেশী – বিদেশী বিভিন্ন সংগঠনের ক্যাম্পাস এ্যাম্বাসেডর হওয়া যায়। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ঐ সংগঠনের প্রচার- প্রচারনা চালাতে হয়। তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রচার ও নিজে অংশগ্রহণের সযোগ থাকে।

ডিজিটাল যুগে আমাদের বিভিন্ন আইটি বিষয়ক দক্ষতা প্রয়োজন হয়। যেমনঃ প্রেজেন্টেশন, এক্সেল, গ্রাফিক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা। ঢা.বি.তে স্কিল হান্ট (SKILL HUNT ) নামক সংগঠন এই বিষয়ক সর্ট কোর্সের আয়োজন করে থাকে। ফলে সেখানে প্রথম বর্ষ থেকেই এই বিষয়গুলোর উপর দক্ষতা অর্জন শুরু করা উচিত। তাছাড়া আর্টস কম্পিউটার সেন্টার কিছু কোর্সের ব্যবস্থা করে থাকে। সেখান থেকেও কোর্সগুলো করে নিতে পারেন।

অনেকের নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার ইচ্ছা থাকে। আবার অনেকেই নিজের আঞ্চলিকতাকে পরিহার করতে পারে না । সেই সাথে অনেকের উচ্চারণের সমস্যাতো আছেই। অনেকে আবার আবৃত্তি করতে ইচ্ছুক। তাদের জন্যে বিভিন্ন সংগঠন এমন কোর্সগুলো অফার করে থাকে। কেউ যদি এমন কোর্স করতে আগ্রহী থাকেন তবে তাদের জন্য বলছি,টিএসসিতে প্রায় সারা বছরই এ ধরনের সংগঠনের ভর্তি কার্যক্রম চলতে থাকে। সেখানে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করতে পারেন।

যারা বাসায় থাকেন ও ভার্সিটির বাস ব্যবহার করেন তাদের জন্যে প্রতিটি বাসেই বাস কমিটি রয়েছে। সেখানে যুক্ত হয়ে তাদের সাথে কাজ করতে পারেন। প্রায় প্রতিটি জেলা – উপজেলার আলাদা আলাদা সংগঠন রয়েছে। এইগুলো ছাড়াও আরো অনেক সংগঠন রয়েছে। সকল সংগঠনে যুক্ত হতে হবে সেই ধারণা না নিয়ে নিজের ইচ্ছা মত দুই- একটায় যুক্ত হয়ে নিজের দক্ষতাকে বিকশিত করতে পারলেই যথেষ্ঠ।

অনেকের মানেই এখন প্রশ্ন জাগছে, আসলে আমরা সংগঠনে কি কি করে থাকি যার জন্যে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়?

একটি সংগঠন বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করে থাকে। আপনারা এই প্রোগ্রামগুলো আয়োজনের সাথে যুক্ত থেকে নিজের কোন কিছু আয়োজন (Organizing) করার ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা (Management Power) ও নেতৃত্ব (Leadership) দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেন। স্টেজ সবসময়ই আমাদের ভয়ের জায়গা। কিন্তু কেউ যদি নিয়মিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্টেজ ব্যবহার করে তবে তার সেই ভয় কেটে যায়। ফলে সে সহজেই পাবলিক স্পিকিং করতে পারবে। তাছাড়া একটা প্রোগ্রামে অনেক লোকজনের সমাগম হয়। সেখানে তাদের কন্ট্রোল করার অভিজ্ঞতা হয়।

এগুলো ছাড়াও ক্লাবগুলোতে অনেক পুরাতন সদস্য থাকে। তাদের সাথে কাজ করতে করতে একটা আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রতিটি সংগঠনের কিছু সাবেক সদস্য থাকে। যারা অধিকাংশই জব করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের আসার সুযোগ। ফলে তাদের সাথে আমাদের নেটওয়ার্কিং (Networking) করার সু্যোগ হয়। এতে করে আমরা বর্তমান জব সেক্টর সম্পর্কে জানতে পারি ও তাদের থেকে বিভিন্ন পরামর্শও পেতে পারি। তাছাড়া ক্লাবগুলোতে সকলে একসাথে কাজ করে থাকে। ফলে টীমওয়ার্ক (Teamwork) করার দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। শুধুতাই নয় ক্লাবিং করে আপনারা আরো অনেক অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা করছি।

আপনাদের জন্য একটা পরামর্শ হচ্ছে, যা-ই করেন না কেন অবশ্যই প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করবেন। যেখানে যাই করবেন অবশ্যই নির্জীব না থেকে সেখানের সকল কিছুকে অর্জন করবেন। অর্জিত দক্ষতাগুলো নিজের বিভাগে ভালো ফলাফলের জন্যে ব্যবহার করতে পারেন।

বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা সকলেরই থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি। তার মধ্যে অন্যতম হলো চাকরীর অভাব। আমাদের দেশে এখনো এমন কালচার চালু হয় নাই যে পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরী করবে। কিন্তু বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা বড় শর্তই থাকে চাকরীর অভিজ্ঞতা (পার্ট টাইম/ফুল টাইম)। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ অনেক কম। তাই আপনারা ক্লাবের অভিজ্ঞতাকেই চাকরীর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখাতে পারবেন।

সংগঠন কেবলই ভালো দিকই নিয়ে আসে তা নয়। অনেকেই এই ধরনের সংগঠন করার পিছনে এমন ভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে এর ফলে নিজের অস্থিত্বই ভুলে যায়। এতে একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পাশাপাশি তাকে রিএডও নিতে দেখা যায়। কাজে – অকাজে সব সময়ই ক্লাবে বসে থেকে নিজের মূল্যবান সময়গুলো নষ্ঠ করে থাকে। এতে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। তাছাড়া কিছু ক্লাব রয়েছে যেগুলোতে বাজে রকমের পলিটিক্স (গ্রুপিং) চলে। এতে করে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও শত্রুতায় পরিণত হয়। আমাদের অবশ্যই এমন ধরণের আচরণ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। যদি এমন অবস্থা আসে তবে ভালো হবে অন্য কোন ক্লাবে যুক্ত হওয়া।

শুধু শুধু আড্ডার নামে সময় নষ্ঠ না করে আমাদের উচিত গঠনমূলক আড্ডা দেওয়া। আড্ডার বিষয়বস্তু একজন নারী বা ফেইসবুকের ট্রোল পেইজ না হয়ে দেশীয় বা আন্তঃর্জাতিক রাজনীতি বা খেলাধূলা বা অন্যান্য গঠনমূলক বিষয়ে হওয়া উত্তম। শুধু ফেইসবুকে বসে বসে স্কিন স্ক্রল না করে ক্লাবগুলোতে সময় দিয়ে নিজেকে একজন দক্ষ ব্যক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্ঠা করা। এতে ভবিষ্যতে যাতে আর হতাশায় না ভোগতে হয়। আপনাদের আগমন যেমন আনন্দের তেমনি বিদায়টাও আনন্দের হওয়া চাই। যেখানে কোন হতাশা থাকবে না। যেখানে শুধুই চাকরীর পিছনে না ছুটে নতুন নতুন চাকরি দেওয়ার কথা চিন্তা করবে আমরা এমনই একাটা নবাগত ভবিষ্যৎ চাই। আপনারাই পারবেন এমন একটা সমাজ বিনির্মাণ করতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

error: লাল সবুজের কথা !!