সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বাস ভঙ্গকারীদের থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ

মাঝে মাঝে আমরা নিজেকে প্রশ্ন করে থাকি যে আমরা অনেক মানুষের সাথে সম্পর্ক করে থাকি, সেটা ব্যবসা হতে পারে অথবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক হতে পারে, সম্পর্কের বিশ্বাসটা ভঙ্গ হয় এবং আমরা পরবর্তীতে অনেক কষ্ট পেয়ে থাকি এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি?

আসলে হয় কি, বিশ্বাস এমন একটা জিনিস যে, আমি যদি চাইলাম তাহলে কাউকে আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে পারি, কিন্তু তার বিনিময়ে যাকে আমি বিশ্বাস করলাম সে যে আমাকে তার বিশ্বাসটা রাখবে সে গ্যরান্টি কিন্তু কখনোই দেয়া যায় না।

এক্ষেত্রে আমি যেটা বলব যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে প্রচুর মানুষ আছে, ভাল মানুষ নেই তা কিন্তু নয়। অবশ্যই অনেক মানুষ আছে যাদের অবশ্যই বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু অনেক জায়গাই দেখা যায় যে বিশ্বাস করে আমাদের ঠকতে হচ্ছে।

তো এক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্বাস ভঙ্গকারীদেরকে চিনবেন কি করে ? চেনা তো খুব শক্ত। তারপরেও কিছু কিছু ব্যাপার আছে, যেমন এরা যারা আপনার আমার কাছে নিজের স্বার্থ টেনে নিয়ে আসছে, আপনার আমার সাথে মিশছে পরবর্তীতে নিজের স্বার্থ যখন উদ্ধার হয়ে যাচ্ছে তখন আপনাকে আমাকে টাটা, গুডবাই বলে চলে যাচ্ছে।

তো সবচেয়ে বড় কথা এ ধরনের মানুষরা অত্যন্ত চতুর হয়। তারা এতো সুন্দর ভাবে কথা বলতে পারে যে মিষ্টিভাষী কথার জাদুকর আমরা যাকে বলি এটা তাদের বলা যায়। সেই কথার তালে কিন্তু আমরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অনেকটা ইমোশোনাল হয়ে যাই। তারপরে অনেকটা ব্যাপার আছে যে ওরা কিন্তু আপনার আমার যে দুর্বল জায়গাটুকু, সেটা জানে সেটা যে ভাবেই হোক ।

এবং দুর্বল জায়গাটাতেই এমন ভাবে ব্যবহার করে বা করবে যে অনেক সময় দেখা দখা যায় আমরা মানুষকে চেনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। অনেকেই বলে থাকেন, ভাই এই মানুষের সাথে কেমনে ব্যবসা করলাম কিভাবে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এখন ভেবে পাচ্ছিনা। ঐ লোকটা এতো সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিল আমি তো টাকা পয়সা দিয়ে বসে থাকলাম এখন দেখি যে আসলে কিছুই নাই !! সব কিছুই হায়-হায়। যে কাজ গুলো তারা বা (তিনি) করছে, তারা বা (তিনি) আমাদের বিশ্বাসটা অর্জন করেই কিন্তু কাজটা করছে। পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে যে যখন তাদের কাজ হাসিল হচ্ছে তখন তারা চলে যাচ্ছেন। এবং ঐ সময় টুকু আমাদের ব্রেইন কিন্তু কাজ করেনা। ব্রেইন ব্লক থাকে। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমি বলব যে আপনার বিশ্বাস তো হতেই পারে। কিন্তু বিশ্বাস এর জন্য নিজেকে ভেঙ্গে ফেলবেন না। আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে, আমার জীবনে কিছু নেই -কার জন্য ?

একটা মানুষ শয়তানি করেছে বলে, একটা মানুষ আপনার সাথে প্রতারণা করছে বলে, আপনার আমার সরলতার সুযোগ নিয়েছে বলে ? একটা বাজে মানুষের জন্য আপনি আমি কেন আপনার আমার নিজের জীবন শেষ করবো? জীবন কয়টা ? জীবন একটাই, এবং সেই জীবনে অবশ্যই এই যে একটা মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা পেলেন বা পেলাম, সেই শিক্ষা থেকে আপনি আমি কি করবো ? আপনি আমি কিন্তু আপনার আমার জীবনের একটা ফাউন্ডেশন তৈরি করতে পারললাম। আর সব থেকে বড় আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে যেকোনো ক্ষেত্রে আমরা যখন কোনো ধরনের কমিটমেন্টে যাব তখন অবশ্যই আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে উপরে আল্লাহ এবং নিজে এই দুজনের বাহিরে কোনো কিছুর উপরে সেভাবে বিশ্বাস করা সম্পূর্ণ বোকামি।

তাই বলব যেকোনো কাজেই, যেকোনো ধরনের সম্পর্কের খেত্রেই বিশ্বাসটাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিবেন ততক্ষানি, যতক্ষানিতে একটা Plan B মাথার পেছনে থাকবে। যেখানে মনে মনে বলা যাবে “থাক”। যেকোনো কারনে প্রতারিত হয় বা হন তাহলে at least আপনি আপনার নিজেকে বলতে পারবেন যে অন্ধের মতো বিশ্বাস করাটাই আমার সবচাইতে বড় অপরাধ হয়েছিল।

আরেকটা জিনিস কি জানেন ? সবচেয়ে বড় কথা এই যে মানুষরা যারা বিশ্বাস ভঙ্গ করে থাকেন তাদের আদৌ মানুষ বলা যায় না।
ওরা হচ্ছে মানুষের মুখোশ ধারী নরকের কীট। সুতরাং এমন ঘৃণ্য কীটের জন্য কখনই আপসেট হওয়া আমাদের উচিৎ না। আপনি আমি মানুষ, আপনি আমি আমাদের নিজেদের কাজ করে যাবো।

মোঃ মামুন হোসেন
সহ-সম্পাদক,
লাল সবুজের কথা

error: লাল সবুজের কথা !!