বিজিবির মাছ জব্দকে কেন্দ্র করে চোরাকারবারি বদরুজ্জামানকে গণধোলাই (ভিডিও)

স্টাফ রিপোর্টার : বিজিবির মাছ জব্দকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও শীর্ষ চোরাকারবারি বদরুজ্জামান খোকাকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ সকাল ১১ টার দিকে বাঁশদহা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকালে কুশখালী বল্ডফিল্ড এলাকা হতে ৬ ড্রাম কই মাছের রেনু জব্দ করে কুশখালী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

বিষয়টি জানতে পেরে কুশখালী এলাকার শীর্ষ চোরাকারবারী ও অবৈধ ঘাট মালিক নাজমুল, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী তুহিন, ফারুক, আজমুল তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার বদরুজ্জামান খোকাকে বাঁশদহা এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে আজমল বিজিবিকে তথ্য দিয়ে ওই মাছ জব্দ করিয়েছে বলে জানায়। বিষয়টি জানতে পেরেই ওই মাছের ভাগিদার বদরুজ্জামান খোকা, ফিরোজসহ কয়েকজন চোরাকারবারিকে নিয়ে সকাল ৮ টার দিকে আজমলের বাড়ির সামনে যেয়ে আজমলকে একা পেয়ে ব্যাপক মারপিট করে।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা ক্ষীপ্ত হয়ে বদরুজ্জামান খোকাকে খুঁজতে বাঁশদহা বাজারে আসে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বদরুজ্জামান খোকা বাঁশদহা বাজারের ইমামুলের হোটেলের ভেতরে যেয়ে পালায়। এরপর স্থানীয় জনতা হোটেলের ভেতর হতে বদরুজ্জামান খোকাকে ধরে এনে গণপিটুনি দিয়ে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয়রা আরো জানান, কুলিয়াডাঙ্গা এলাকার ফিরোজ, আমির, কুশখালী এলাকার নাজমুল, তুহিন,,আজমুল, ফারুকের একটি চোরাচালানের সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেট বিজিবির চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত মাছ, সুপারী, কব্জা, মাদকের ব্যবসা করছে। বদরুজ্জামান খোকার চোরাচালানী সিন্ডিকেট এতই হিংস্র যে তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। কথা বললেই যখন তখন যেকোন ব্যক্তিকে মারপিট করে তার। এখনই যদি এই সিন্ডিকেট নির্মূল করা না হয় তবে এদের তান্ডব দিন দিন বেড়ে যাবে বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বদরুজ্জামান খোকাকে গণধোলাইয়ের খবর পেয়ে সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে কুশখালীর নাজমুল, তুহিন, ফারুক, আজমুল বাঁশদহা বাজারে আসলে জনরোষে পড়ে তারাও দ্রুত বাঁশদহা বাজার হতে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে আজমলের ভাই মিন্টু বলেন, বদরুজ্জামান খোকা কুশখালীর শীর্ষ চোরাকারবারীদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ চারামাছ, সুপারী, ফেন্সিডিলের ব্যবসা করছে। আজ ভারতে পাচারকালে তাদের মাছ বিজিবি জব্দ করায় বিজিবিকে আমার ভাই আজমল তথ্য দিয়েছে এমন সন্দেহ করে তাকে প্রচন্ড পরিমাণ মারপিট করেছে।

এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বর বদরুজ্জামান খোকা বলেন, বাঁশদহা বাজারে এমন কোন ঘটনা ঘটে নি।

কুশখালি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার রুহুল আমীন বলেন, ৬ ড্রাম কই মাছের রেনু জব্দ করা হয়েছে। মাছগুলো হেডকোয়ার্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।

error: লাল সবুজের কথা !!