বালাকোট হামলার প্রমাণ দেবে না ভারত

72

ভারতের এক শীর্ষ মন্ত্রী বলেছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোট শহরের বাইরে ভারতের বিমানবাহিনীর হামলায় ব্যাপকসংখ্যক বিদ্রোহী নিহত হওয়ার যে দাবি ভারত করেছে, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা হবে না।-খবর রয়টার্সের।

পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা উসকে দেয়া ওই হামলায় ব্যাপক হতাহতের খবর নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ভারতীয় মন্ত্রী এমন দাবি করলেন।

পাকিস্তানে আটক ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলটকে শুক্রবার রাতে ফেরত দেয়ার পর উত্তেজনায় কিছুটা পিছুটান দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বশক্তিগুলোও দুই চিরশত্রুর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ যাতে না বেধে যায়, সে চেষ্টাই করেছে।

তবে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কামান ও মর্টারের ভারী গোলাবর্ষণ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু।

ভারতের অভিযোগ, হামলার দায় স্বীকার করা জইশ-ই-মোহাম্মদের বিদ্রোহীদের আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান।

বালাকোট শহরের বাইরে বিদ্রোহীদের বিশাল ক্যাম্পে ভারত বোমা ফেলে গুঁড়িয়ে দেয়া ও ২০০-৩০০ বিদ্রোহী হত্যার দাবি করলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে এমন কোনো ক্যাম্পের অস্তিত্ব নেই।

এমনকি স্থানীয় গ্রামবাসীও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এমন দাবি করেছে। বুধবার পাকিস্তান এ হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, একটি বিস্তৃত খালি পাহাড়ি অঞ্চলে বোমা ফেলে পালিয়ে গেছে ভারতীয় বিমান। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ভারতের বিরোধী দলগুলোও হামলার পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা সরকারকে হাজির করতে বলেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম বিশ্বস্ত বলে পরিচিত অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, অভিযান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা সংস্থা দেয়নি। এসব তথ্য প্রকাশের দাবি খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন অবস্থান।

‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়া উচিত,’ বললেন জেটলি।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, কেউ যদি অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি করেন, তবে বলতে হবে নিশ্চিতভাবে এ ব্যবস্থাটি নিয়ে তার কোনো বুঝজ্ঞান নেই।

এর আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, কখন ও কীভাবে বালাকোট হামলার তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ করবেন, তা রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্ত।