“বাংলাদেশ পুলিশ” মানবিকতা ও মানব সেবায় এক উজ্জলতম দৃষ্টান্ত

561

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা : সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সমগ্র বিশ্ব মানবজাতি এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি।
পৃথিবীর প্রতিটি দেশের জনগন সরকারি বিধি নিষেধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন থেকে করোনার মোকাবেলা করছে। এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাও সঠিক ভাবে স্বাস্থ্য সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে জনগনের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে আমাদের এই অসচেতন জনবহুল রাষ্ট্রে চিকিৎসা দেওয়ার পূর্বে জনগন কে সংক্রমক বিধি নিষেধের আওতায় আনাটা বেশি জরুরী হয়ে উঠেছে। তাই জনগনকে গাধার দলের মতো গোয়ালঘরে তুলতে সর্বদা রাখালের প্রয়োজন হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে তা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ঠিক তখনই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনি আইন ও পেশাগত দ্বায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকমুল্যবোধ নিয়ে অত্যান্ত আন্তরিকতার সহিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরলস ভাবে কাজ করছে।

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য – এই প্রতিপাদ্য কে লক্ষে নিয়ে জনগনের সার্বিক সেবা প্রদানে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।করোনায় মৃত্যু হওয়া লাশের সংস্পর্শে অনেকের পরিবার, স্বজনরা আসতে অসম্মতি প্রকাশ করছে। জানাজা পড়ানো, কবর খোড়া, দাফন করা শেষে রুহের মাগফেরাত কামনায় পুলিশ। পাড়ায় মহল্লায় দিবারাত্রি অসুস্থ রোগীর খোজ নেওয়া, ডাক্তারের সহায়তা দেওয়া, এবং ঘরে ঔষধ পৌঁছে দেওয়ায় পুলিশ।ভাইরাস আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
লোকচক্ষুর আড়ালে মধ্যবিত্তদের ঘরে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ। ইতি মধ্যে ২০ কোটি টাকা ত্রান সাহায্য দিয়েছে পুলিশ বাহিনি ।ফুটপাতে পড়ে থাকা অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশটি উদ্ধার করে দাফন করছে পুলিশ।
বিনোদনের মাধ্যমে জনগন কে সচেতন করছে পুলিশ।জনগন কে অনলাইনের মাধ্যমে সহোযোগিতায় থাকছে পুলিশ।
থানায় ফোন করলে খাদ্য পৌছে দিচ্ছে পুলিশ।
প্রচন্ড ক্ষরতাপে গরম পিচের রাস্তায় দাড়িয়ে নিয়ম পালনে বাধ্য করছে পুলিশ।
দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের হাতে ত্রান দিচ্ছে পুলিশ। নিজেকে পরিবার পরিজনদের মাঝে বঞ্চিত রেখে দেশের অসহায় এতিম পথিতদের সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ।
হাট বাজারে জনগনের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য বিক্রয়ে শৃঙ্খলা ও দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন করছে পুলিশ। বর্তমানে দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগনের সেবা প্রদানে পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম। করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে পুলিশ বাহিনীর এমন জন সম্পৃক্তততা ও মনবিকতা একটি নতুন ভাবমূর্তি নির্মান করেছে। যাহা আগামী দিনে প্রতিটি বাহিনীর দেশ ও মানুষের কল্যানে করার পথে পাথেয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সকলের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।