বরিশালে ভিন্ন রকম ভালোবাসা দিবস

মুক্তা আক্তারঃবছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রচুর জাতীয় ও বিশেষ দিবস রয়েছে। প্রতিবছর ঘুরেই দিবসগুলো মহা ধুমধামে উৎযাপিত হয়। ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক ও জাতীয় উদ্যোগে উৎযাপিত দিবসগুলো একটা ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর পালন করে আসছি আমরা।

গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে বেড়িয়ে দিবসগুলো সমাজের নিন্ম শ্রেণী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারার মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত আত্মতৃপ্তি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রথম সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত সংগঠন হিসেবে স্বতস্ফূর্তভাবে “৭১’র চেতনার” কার্যক্রম চলে আসছে।

বছরে উদযাপিত প্রতিটি দিবসে কিছু ভিন্নধর্মী আয়োজন করার চেষ্টা এই সংগঠনের সেচ্ছাসেবীদের একরকম নেশার মত হয়ে উঠেছে। ভালো কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সমাজে অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়াবার চেষ্টা থেকে এবছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভিন্নধর্মী আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে “৭১’র চেতনা” সামাজিক সংগঠনটির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বরিশালে অবস্থিত অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখার সদস্যরা।

সদস্যদের নিজস্ব ছোট ছোট অনুদানের টাকা দিয়ে গোলাপ কিনে উন্মুক্ত বিক্রয় কার্যক্রম হাতে নেয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিয়ে রয়েছে ভিন্নরকম ভালোবাসা দিবসের উৎযাপন। বরিশালের লঞ্চঘাটে ঘুরে ফেরা ছিন্নমূল সুবিধাবঞ্চিত শিশু, বরিশালে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে অবহেলিত মা এবং একই আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত এতিম শিশুদের জন্য খাদ্য তৈরি ও বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরম ভালোবাসায় সংগঠনের নারী সদস্যগণ নিজ হাতে বিভিন্নরকম পিঠা তৈরি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, বৃদ্ধাশ্রম ও মা-বাবাহীন শিশুদের মাঝে নিয়ে যাবার মধ্য দিয়ে এবারের ভালোবাসা দিবসের নতুনত্ব আনার নিমিত্তে আপ্রাণ চেষ্টারত ছিল।

“৭১ এর চেতনা” সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীগণ বিশ্বাস করেন যে, বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে গতানুগতিকতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা তৈরি প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পথ বিদ্যালয় “চেতনালয়” কার্যক্রম, বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থিত অসহায় মায়েদের নিয়ে “মায়ের মুখে ইদের হাসি”, শীতবস্ত্র বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল-কলেজে মাসব্যাপী সেমিনার কার্যক্রম, অসুস্থ ও দুঃস্থ মানুষের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন, বন্যা কবলিতদের ত্রাণকার্য্য কিংবা সচেতনতামূলক উঠোন বৈঠক পরিচালনার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে “৭১ এর চেতনা” সংগঠনটি।

গত বছর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নৌকা ভ্রমন, কেক কাটা, ফল বিতরণ ও উন্মুক্ত পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল অত্যন্ত উপভোগ্য ও পরিতৃপ্তিকর।এ বছর ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রয়ের অর্থ ব্যয়ে বরিশালে অবস্থিত অন্ধ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হয়।সমাজে সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যেকের জায়গা থেকে ছোট ছোট চেষ্টা ও ভালো কাজের ইচ্ছা আমাদের সমাজের চেহারা রাতারাতি বদলে দিতে পারে। কে করছে কিংবা কে কিছু করছেনা, অন্যের ভুল অথবা দুর্বলতার দিকে প্রশ্ন তুলবার আগে নিজেকে শোধরান একান্ত প্রয়োজন। যে নিজেকে সাহায্য করার জন্য যথেষ্ঠ নয় তার কাছ থেকে অন্যেরা, তার পরিবার, কাছের মানুষ, সমাজ কিংবা জাতি ভালো কিছুর আশা করতে পারেনা। মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন ব্যক্তি হবার পাশাপাশি সমাজের নিন্মশ্রেণীর মানুষের জন্য সাহায্য, ভালোবাসা আর অনুদানের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠুক স্বপ্নের বাংলাদেশ, মুছে যাক অসহায় মানুষের দুঃখ, বন্ধ হোক বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবার কান্না।

সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শুভ শক্তির সংগঠনের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠনের জন্য পৃষ্ঠপোষকতার সাথে তৈরি করতে হবে সামাজিক মূল্যবোধ। “৭১ এর চেতনার” মত আরো অনেক সংগঠন একযোগে সামাজিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। সংগঠনটির ভালোবাসা ও সেচ্ছাসেবীদের ত্যাগী মনোভাব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এভাবে সমাজে ভালো কাজ ও ভালো মানুষ তৈরির চেষ্টা অব্যহত থাকুক, ভিন্নতা পাক দিবসগুলোর উৎযাপনের ধারা।

লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

error: লাল সবুজের কথা !!