প্রকৃতির টানে হাতিরঝিলে একদিন

16

মো. জাহানুর ইসলাম : ঢাকা শহরে প্রকৃতির ছোঁয়া তেমন একটা নেই বললেই চলে। চারদিকে শুধু ইট পাথরের দালান কোঠা আর স্থাপনা। ঢাকা নগরীতে বসবাসকারী নাগরিকরা প্রকৃতির একটুখানি ছোঁয়া পেতে অনেকটা চাতক পাখির মতো অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে। তাদের ভাবখানা এমন থাকে যে কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

একটু সুযোগ পেলেই তার সৎ ব্যবহার করতে মোটামুটি সবাই সিদ্ধহস্ত। সুযোগ আসলে তা সহজে হাতছাড়া করতে চায়না কেউ। আমরা যারা ঢাকা শহরের বাসিন্দা তারা প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে যে কতটা উদগ্রীব হয়ে থাকি তা তো সবারই জানা।

আমাদের এবারের পরিকল্পনা ঢাকার বুকে অবস্থিত হাতিরঝিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। পরিকল্পনা মাফিক ১১ অক্টোবর শক্রবার বিকাল ৪ টায় হাতিরঝিলে পারভেজ, ওমর ফারুক, নাজিম খান, তন্নি, নাজমুল হক, আসমা, দিদার, শাহজাহান, আতাউর, বৃষ্টি, হ্যাপি, আশিক, জাহিদুলসহ প্রায় ৫০ জন

উপস্থিত হই। উপস্থিত হয়ে চোখ তো একেবারে ছানাবড়া। ঢাকার ভিতরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এমন একটি নান্দনিক জায়গা আছে দেখে তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না। হাতিরঝিল যেন ছোট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁতুরঘর । প্রকৃতির ছোঁয়া মিশ্রিত হাতিরঝিলের আলো বাতাস আমাদের মন কাড়ে। সত্যি বলতে ঢাকা শহুরে প্রকৃতির ছোঁয়া মিশ্রিত এতোটা সবুজ সতেজ পরিবেশ খুব কমই আছে। বৃক্ষ রাজির শ্যামল ছায়া,নির্মল বাতাস আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছি। আমরা নিমিষেই হারিয়ে যাই অন্য এক ঢাকা শহরের অতল গহ্বরে। যান্ত্রিক শহরের বুকে এটি ছিল এক চিলতে সবুজের হাতছানি। দু’পাশে গাঢ় সবুজ যেন চাদর বিছিয়ে দিয়েছে দূর্বা ঘাসের পাতাগুলোর ওপর।

মাঝখানে সিরামিকের হাঁটার পথ। ওপর থেকে ক্লান্ত পথিককে ছায়া দিচ্ছে নব যৌবনা খেজুর, পাম, কৃষ্ণচূড়ার পত্রপল্লব। বিনোদনের জন্য লেকে রয়েছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, রয়েছে ছোট পরিসরে পিকনিক স্পটসহ বেশ কিছু সুবিধা।সৌন্দর্য দেখে মন হচ্ছিল ঢাকা শহর নয়, আমরা যেন বিদেশের কোন শহরে ঘুরছি। দুপুর শেষে সন্ধ্যা নামে। গোধূলী বেলায় হাতিরঝিলের সৌন্দর্য আরও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যা রাতের মিটিমিটি আলোর লুকোচুরিতে অপরূপার বেশে ধরা দেয়। আমরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব কিছু উপভোগ করি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফুসকা খাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের ঘুরাঘুরি। সবাই নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতে থাকি আর অস্ফুটস্বরে মনে মনে বলি আহ! আর একটু বেশি আড্ডা দিলে মন্দ হতো না! সময় যে এতো তাড়াতাড়ি চলে যায় কেন ?