পাটকেলঘাটায় ফসলি ক্ষেতের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

21

এস.এম মফিদুল ইসলাম: পাটকেলঘাটা সহ তালা উপজেলার ইটভাটাগুলোতে মাটির প্রয়োজনে ফসলি ক্ষেতের মাটি নিয়ে যাচ্ছে হরহামেশায়। প্রয়োজনে কিংবা আর্থিক দৈন্যতায় অনেকে জমির মাটি বিক্রি করে দিলে ভাটা মালিকগণ মাটি তুলে সেখানে পুকুরে পরিণত করে দিচ্ছে। ফলোশ্রæতিতে দিনে দিনে কমছে ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি ক্ষেত।

সরেজমিনে পাটকেলঘাটা সহ তালা উপজেলার একাধিক ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ইটভাটার প্রয়োজনে এতদাঞ্চলের ভাটা মালিকগণ মাটি কেটে পুুকুর বিলে পরিণত করছে। এমনকি কপোতাক্ষের বেড়িবাধের মাটি কেটে নিয়ে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এসকল বেড়িবাধের মাটি ধসে আবারও কপোতাক্ষে গিয়ে পড়বে এবং মানবসৃষ্ট বন্যায় পরিণত হবে।

এদিকে অধিকাংশ ভাটা মালিকগণ ৩ ফসলি ক্ষেতের মাটি কেটে ফসলি ক্ষেতের ধ্বংস করে দিচ্ছে। কাচা পাকা রাস্তাগুলোতে একেকটি ইটভাটা মালিকগণ ৪/৫ টি করে ড্রাম ট্রাক, ট্রাক্টর দিয়ে অনবরত মাটি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে রাস্তাগুলো একেবারে অকেজো হয়ে পড়ছে। স্কেভেটর বন্ধ না করার নিমিত্তে এসকল অদক্ষ গাড়ি চালকগুলো এতটাই বেপরোয়া হয়ে চালাচ্ছে যেন প্রতিদিন দুএকটি দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তার উপর পড়ে থাকা মাটিগুলোতে বৃষ্টির পানি পড়লে যানবাহন চালানো একেবারে ঝুকি হয়ে পড়ছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এতদাঞ্চলের ভাটামালিকগণ অতি লাভের আশায় ৩ ফসলি ক্ষেতে গড়ে তুলছে ইটভাটা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে অপরদিকে তেমনি পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে।

এমনও দেখা যায়, কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই টাকা আর ক্ষমতার দাপটে গড়ে তুলছে পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা। ২/১ টি ইটভাটা দেখা মেললেও গত ৫ বছরে বেড়েছে তার ৫ গুণ। কর্মসংস্থানের দোহাই দিয়ে এসকল ভাটা মালিকগণ মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে দেদারছে। এনিয়ে সমাজের বিজ্ঞজন এবং প্রতিবেদন তৈরী করলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ হয়ে যায়।

থানার কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম বলেন, দিনে দিনে যেভাবে ইট ভাটা তৈরী হচ্ছে তাতে আর ফসলি জমি আগামী কয়েক বছরে পুকুর কিংবা ঘের বিলে পরিণত হয়ে আমাদের মাছ চাষ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। দাদপুর গ্রামের ইমদাদ হোসেন বলেন, ইটভাটায় মাটি নিতে গিয়ে রাস্তা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। বেপরোয়া চালানোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এই মুহুর্তে ভাটা মালিকগণের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পরিবেশ ধ্বংসের কবলে পড়বে। তাই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।