পাটকেলঘাটায় নীলিমা ইকোপার্কে ঈদের দর্শনার্থীদের উপছে পড়া ভিড়

114

মো. রিপন হোসাইন,পাটকেলঘাটা:
মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত দুগ্ধ স্রোতরূপী পাটকেলঘাটা থানা সদরের উপর দিয়ে বহমান দৃষ্টিনন্দন শ্বেতাস্বিনী কপোতাক্ষ নদ। কয়েক বছর আগেও এ নদ ছিল বদ্ধ জলাশয়। কিন্তু বর্তমান সরকারে ২৬২ কোটি ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খননের ফলে ফিরে পেয়েছে তার হারানো যৌবন। এ নদে শুরু হয়েছে পাল তোলা নৌকা ।

ঈদের পরবর্তী আনন্দ উপভোগ করার জন্য পাটকেলঘাটা নীলিমা কপোতাক্ষ ইকোপার্কে উপচে পড়া দেখা গেছে। দিনভর আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ঘুরে বিকাল থেকে পার্কে এসে সময় কাটাতে ও নতুন এই পার্কে নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন করার জন্য সব বয়সে বিনোদন প্রেমিকদের আনাগোনা গেছে। রবিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে প্রচন্ড ভিড়ে দর্শকদের চাহিদা মত বসবার জায়গা ছিল না। কপোতাক্ষ নদ ভ্রমন করার জন্য বোটে ওঠার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ২০ টাকা দিয়ে ২/৩ কিঃ মিঃ নদী ভ্রমন করার জন্য ভিড়ের কারনে অতিষ্ট হয়ে বীতশ্রদ্ধা হয়ে অনেকে চলে গেছে।

ভ্রমন পিপাসুদের দাবী আরো কিছু বোর্ট থাকলে এই কষ্ট পেতে হত না। এই পার্কে বিভিন্ন জেলা থেকে বেড়াতে আসতে দেখা গেছে। পার্কের ধারে নদী ঘেসে সুন্দরবনের কেওড়া, গড়ান,গেওয়া, বাইন,সুন্দরী ওড়াল, কাকড়াসহ আমগাছ,নারকেল গাছ, তালগাছ লাগানোর কারনে পার্কের দৃশ্য আরো মনোরম হয়েছে। পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে চম্পা,স্বপ্না,খুশি জানান পাটকেলঘাটায় আগে এমন ধরণের বিনোদনের জন্য কোন জায়গা ছিল না।

নীলিমা কপোতাক্ষ ইকো পার্ক হওয়ায় আমাদের সময় কাটানোর জন্য বিনোদনের জায়গা হিসাবে পার্কটি যথেষ্ট অর্থবহ হয়েছে। ঢাকায় বসবাসরত ইমরান হাসানও হাফিজুর রহমান জানান, নতুন এ পার্কে এসে যথেষ্ট ভাল লাগছে। তবে পার্কের সুন্দর একটি গেট দরকার। নদীতে আরো কিছু বোট দরকার। পার্কের জায়গা আরো সম্প্রসারন দরকার। আরো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার। তবে পার্কের ধারে অবৈধ স্থাপনা দুর করতে হবে। তাহলে পার্কে সৌন্দয বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে পার্কে সার্বিক সহযোাগিতায় তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরো জায়গা সম্প্রসারন করার চেষ্টা চলছে। নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু নির্মান করে নদীর ওপার সরকারী জায়গা বেশী থাকায় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতায় সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আরো সুন্দর সুন্দর গাছ লাগানোও মুরাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া বাইপাস সড়ক তৈরি করে পার্কের পাশ দিয়ে ফুলগাছ লাগানো হবে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পার্কটি রাতে উপভোগ করার জন্য ১৫/২০ টি সোলার স্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৭ তৎকালীন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে যুগ্নসচিব আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন মহোদয়ে উদ্বোধনের পর থেকে পাটকেলঘাটা বিনোদন পিপাসুদের জন্য পার্কটি আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে।