পাটকেলঘাটার সরুলিয়ায় মিন্টু ঘোষের দুধের কারখানায় চলছে ভেজালের সমারোহ

122

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুধ থেকে ক্রিম আর ছানা কেটে বাগেরহাট, বরিশাল, পিরোজপুর সহ বিভিন্ন স্থানে পাঠান পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ঘোষপাড়ার ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরুলিয়ার ঘোষপাড়ায় ঘোষ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মিন্টু কুমার ঘোষের দুধের কারখানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তারই অপর ভাই সমির ঘোষ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বের করে দেন।

এই প্রতিবেদক জানান, কারখানায় গিয়ে কারখানার কর্মচারীদের কাছে মালিক আছে কিনা এমন কথা শুনলে তারা জানান মালিক বাইরে আছি। মোবাইল নাম্বার নিয়ে কারখানার মালিক মিন্টু কুমার ঘোষের কাছে ফোন করলে তিনি জানান দূরে আছেন।কারখানায় যেতে পারছেন না। সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য কারখানার কিছু ছবি আর ভিডিও প্রয়োজন এমন কথা বললে তিনি বলেন ঠিক আছে করে নিয়ে যান।

সংবাদ সংগ্রহ করা কালে দেখা যায়, মেশিনের মাধ্যমে দুধ থেকে আলাদাভাবে ক্রিম বের করছেন। আরেকপাশ দিয়ে ক্রিমের উচ্ছৃষ্ঠ যাকে তাদের ভাষায় ছিটা বলে সেটা বের হচ্ছে। দুধের সাথে আটা মিশিয়ে ছানা তৈরি করছেন। বাড়ির উঠানে গাছের কাঠ সাজিয়ে রেখে সেগুলো দিয়ে জাল দেন। কারখানার কোনো লাইসেন্স অথবা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন,সবই আছে। তবে দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।

সংবাদ সংগ্রহকালে সংবাদ করতে বাঁধা প্রদান করেন সমির ঘোষ।সংবাদ করে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন কিসের সাংবাদিক আপনি? কোনো সাংবাদিক কারখানায় ঢুকতে পারবেনা। তিনি দাম্ভিকতা দেখিয়ে আরো বলেন, সাংবাদিকেরা আমার কারখানায় ঢুকতে তো পারবেনা একইসাথে কোনো সংবাদ লেখার ক্ষমতাও রাখেনা। কারখানার কর্মচারিদের বলেন কেনো সাংবাদিকেরা কারখানায় ঢুকলো? সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি কর্মচারিদের গালিগালাজ করেন।

এদিকে মিন্টু কুমার ঘোষ ও সমির কুমার ঘোষ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে এই প্রতিবেদককে মোবাইলে কল করিয়ে যাতে সংবাদটা বন্ধ করা যায় তার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।

সাতক্ষীরা জেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রথীন্দ্র নাথ সরকার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে খুব শিঘ্রই।

সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, করোনা পজেটিভ হয়ে তিনি ছুটিতে আছেন। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে কিছু রিপোর্ট রয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে এসব দুধের কারখানা পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।