নির্মূল হোক বাল্যবিবাহের কষাঘাত

মোহাম্মদ মুনতাসীর মামুন

বাল্য বিবাহ বর্তমান প্রচলিত একটি সামাজিক ব্যাধি।যার ফল খুবই বিশাদশান্ত।সমাজের অন্যসব ব্যাধির থেকে বাল্য বিবাহ অন্যরকম এবং ভয়াবহ।

বাংলাদেশ সরকার বিবাহের জন্য বয়স নির্ধারণ করেছেন।যাতে ছেলের বয়স হতে হবে একুশ বছর এবং মেয়ের আঠারো বছর। তবে ভয়ানক এই ব্যাধিতির প্রচলন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।যার ফলশ্রুতি মেয়েরা অপরিপক্ব শরিরে সন্তান প্রসব করেছেন। ব্রাকের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে অপরিপূর্ণ বয়সে সন্তান প্রসব করায় তিনজনের দুই জনই মারা যাচ্ছেন।

যখন একটি মেয়ে নিজের চলাফেরাই নিজে করতে পারেনা তখন তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয় বড় একটা সংসারের সমস্ত দায়িত্ব। যেখানে নিজেই নিজেকেই নিজে সামলাতে পারেনা সেখানে শশুর,শ্বাশুড়ি, স্বামী, ভাসুর, দেবর ননদ সহ আরো অনেক ঝামেলা।

এত ঝামেলা একটা বালিকা কিভাবে সামাল দিবে? আমাদের সমাজে বাল্য বিবাহ নিয়ে অনেক কর্মশালা, হুঁশিয়ারি, আইনের কঠোরতা বুঝানো হয় অভিভাবকদের তবুও তারা শুধু গরিব বলে সব দায় এড়িয়ে যায়। যেখানে লেখাপড়ার সব দ্বায়িত্ব বহন করছে তবুও এহেন কর্ম মানতে নারাজ। সরকারের কঠোরতায় অভিভাবকরা তাদের মতবাদ ও পাল্টে নিয়েছেন।যেমন, বিবাহ হবে রাতে,গোপনে, কাজীকে ভুয়া জন্মসনদ দেখিয়ে, কোন আত্মীয়দের বাড়ী নিয়ে বিবাহ দেয়া ইত্যাদি। এতে তার পরিবার মনে করেন মেয়েরা তাদের কাছে বোঝা।

মেয়েকে বোঝা না ভেবে রত্ন মনে করুন,একদিন না একদিন ফুটে উঠবে।আপনি আপনার মেয়েকে বাল্য বিবাহ দিয়ে মনে করতে পারেন বেচে গেলেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সমাজ হারালো তার এক মা-কে।

বাল্য বিবাহ এরিযে চলি,সুন্দর আগামী গড়ি।আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ, তাই বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই।সমাজ থেকে নির্মূল হোক বাল্যবিবাহের কষাঘাত।

error: লাল সবুজের কথা !!