সর্বশেষ সংবাদ

নিরাপত্তা নামক চাঁদরটি কি পাবো না?

এসএম হাসান আলী বাচ্চু: সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা।সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমরা সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়,দুর্নীতি,অবিচার গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি ।শুধুমাত্র এ সব নই সমাজের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড গুলোও তুলে ধরি । তার পরেও আমাদের পারে কেন এত আক্রোশ । আমরা সবসময় কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবো ।

আমরা কি নিরাপত্তা নামক চাদঁরতা কখনো পাবো না । প্রতিনিয়ত কোন না কোন কলম সৈনিকদের মৃত্যুর সংবাদ,হামলার সংবাদ,হুমকি কেন পাবো । গত কয়েক বছর ঘটে যাওয়া কলম সৈনিক দের মৃত্যুর নির্মম পরিহাস গুলো দেখে শুনে মনে হয় আমরাও প্রস্তুত থাকতে হবে মৃত্যুর জন্য । যে মৃত্যু কারও কাম্য নই ।

যে ১৪ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন : বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের ঘটনা। ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসা বেডরুমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে হত্যাকান্ডের শিকার হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। এর আগে ২৮ জানুয়ারি পল্টনের নিজ বাসায় গলাকেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও তাঁর স্ত্রী রহিমা খাতুনকে।

ফরহাদ দম্পতির মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও খুন হলেন সাংবাদিকদের প্রিয়মুখ সাগর-রুনি দম্পতি। মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ১৪ জন বা তার বেশি সাংবাদিক খুন হন। এর মধ্যে রাজধানীসহ বৃহত্তর ঢাকাতেই খুন হয়েছেন ১০ জনের বেশি সাংবাদিক।

দুটি দম্পতি হত্যার আগে গত ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুকরাইল এলাকায় গলা কেটে হত্যা করা হয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর গোবিন্দগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রঞ্জুকে। ৭ এপ্রিল এক দিনেই ঢাকার উত্তরা ও চট্টগ্রামের পোর্টকলোনিতে খুন হয়েছেন ২ সাংবাদিক। ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের পোর্টকলোনি এলাকায় দৈনিক আজকের প্রত্যাশা, সাপ্তাহিক সংবাদচিত্র ও আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সাংবাদিক মাহবুব টুটুলকে হত্যা করা হয়েছে। একই দিন উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে ১০ নম্বর বাসায় খুন হন সাপ্তাহিক বজ্রকণ্ঠের সাংবাদিক আলতাফ হোসেন। হত্যার ১১ দিন আগ থেকে নিখোঁজ ছিলেন সাংবাদিক আলতাফ।

২০১০ সালের ৯ মে গুপ্তহত্যার শিকার হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল। ২০১০ সালের ২৮ এপ্রিল খুন হন বিশিষ্ট সাংবাদিক ফতেহ ওসমানী। সাপ্তাহিক ২০০০-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানীকে ওই বছর ১৮ এপ্রিল কুড়াল ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর চিকিসাৎধীন অবস্থায় ঢাকায় তার মৃত্যু হয়। ২০১০ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন বরিশালের মুলাদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন।

২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিককে রাজধানীর মগবাজারে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে তাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে। একই বছর জুলাই মাসে ঢাকার পাক্ষিক মুক্তমনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা, আগস্ট মাসে গাজীপুরে ঢাকার সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক সময়-এর নির্বাহী সম্পাদক এমএম আহসান হাবিব বারী, ডিসেম্বরে রূপগঞ্জে দৈনিক ইনকিলাব সংবাদদাতা ও রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি আবুল হাসান আসিফ খুন হন।

যারা মরহুম প্রবীণ সাংবাদিকদের নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আমরা কি পারি না তাদের কথাগুলো না লিখে, ছবিতে না তুলে আর ক্যামেরায় না বন্দি করে সমাজিক ভাবে তাদেরকে বয়কট করতে ?এভাবে আর কতদিন চলবো?

সাংগঠনিক সম্পাদক,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তালা

error: লাল সবুজের কথা !!