নাজিমগঞ্জ টু বসন্তপুর রাস্তার বেহাল দশা: দেখার নেই কোন অভিভাবক!

13
কালিগঞ্জে নাজিমগঞ্জ টু বসন্তপুর রাস্তার বেহাল দশা।ছবি- লাল সবুজের কথা

মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজার ত্রি-মোহনী থেকে বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্প অভিমুখে ২ কিঃমিঃ কার্পেটিং সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ইতিমধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ফাটল ও খানাখন্দকে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে পুকুরের মত দেখা যায়। এতে বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাধারণ পথচারীরা দুর্ভোগের শিকারসহ মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তারপরও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ্যের টনক নড়ছে না। কয়েক মাস আগে সরকারী নিয়ম বর্হিভূত ভাবে অনুমোদন ছাড়াই জনবসতি এলাকায় বালু ব্যবসা ও ভেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে এলজিইডির অর্থায়নে উপজেলার নাজিমগঞ্জ-বসন্তপুর সড়কের দেড় কিঃমিঃ ও ২০১৮ সালে পাঁকার মোড় ওয়াপদা বাজার থেকে বসন্তপুর সীমান্ত বিজিবি ক্যাম্প অভিমুখে প্রায় আধা কিঃমিঃ সড়কটি কাপেটিং করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পুরাতন সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সড়কের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারী জায়গায় গড়ে উঠছে অবৈধ বিভিন্ন স্থাপনা ও বালুর আড়ৎ।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এলাকার মনিরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা কালু, আবু কালাম, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও শামসুর রহমানের কাছে হাজারও মানুষ জিম্মি হয়ে রাস্থাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের বালুবাহী ভারী ট্রাক ও ড্যাম্পারসহ অবৈধ যানবাহন চলাচলে কার্পেটিং বেড়িবাঁধ সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম নূর মোহাম্মাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, সমাজসেবক হুমায়ন কবিরসহ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট বালু বোঝাই শত শত ট্রাক, ড্যাম্পার চলাচলে কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া বের হয়ে দু’পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাইসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকেরা ও পথচারীরা চলাচল করছে ধীরগতিতে।

তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাঁদাযুক্ত হওয়ায় চলাচল করতে জনসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। বালু পরিবহনকারী ট্রাকসহ অবৈধ যানবাহন রাস্তায় সারিবদ্ধ ভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার হাজারও মানুষের। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী এলাকার রাস্তা নষ্ট ও জনদূর্ভোগের দায় স্বীকার করেছে। উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত ফাঁড়ীর কয়েকজন বিজিবির সদস্য বলেন, তাদের সীমান্ত ফাঁড়িতে যাওয়া নিকটতম সড়ক এটি। এর বিকল্প একটি সড়ক থাকলেও সেটিতে সময় বেশি লাগে। ফলে সীমান্তে কোন ঘটনা ঘটলে এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে গেলে সময়মত ঘটনাস্থলে যাওয়া যায় না।

স্থানীয় মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন বলেন, র্দীঘদিনের কার্পেটিং এ সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্ত এবং নতুন সড়কে ফাটল দেখা গেছে। বালুর গাড়ি চলাচলের কারণে সরকারী রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। কয়েকজন বালু ব্যবসায়ীর জন্য সড়কে চলতে গিয়ে পথচারীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

কালিগঞ্জ এলজিইডি এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামসুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্প্রতি ২৩শত মিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরে বাকি রাস্তা মেরামত কাজের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

কালিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় হালদার বলেন, কাঁকশিয়ালী নদীর তীরে নাজিমগঞ্জ বসন্তপুর ওয়াপদা সড়ক ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় অবৈধ বালু ব্যবসায়িদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। জনবহুল এলাকায় বালুর ব্যবসা নিষেধ ও সরকারী জায়গা খালি করতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

কার্পেটিং সড়কে ফাটলের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল এর জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।