নগরঘাটায় ব্রকলি চাষে লাভবান মাসুদ হোসেন

ইয়াছিন আলীঃ তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কৃষক মাসুদ হোসেন চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশী সবজি ব্রকলি আবাদ করেন । প্রথমবারেই এ সবজি উৎপাদন করে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে তার। এ সাফল্যের খুশিতে মাসুদ এখন চেষ্টা করছেন বাণিজ্যিকভাবে ব্রকলি উৎপাদনের। তাকে দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ সবজি আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরায় ব্রকলি উৎপাদন সম্ভাবনাময়।

জানা গেছে, উন্নয়ন প্রচেষ্টা নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রকলি আবাদ করেন নগরঘাটা গ্রামের ১০ কৃষক। এজন্য উন্নয়ন প্রচেষ্টার পক্ষ থেকে তাদের তাইওয়ানি জাতের ব্রকলি বীজও সরবরাহ করা হয়। প্রথমবার ব্রকলি আবাদে এ কৃষকরা ভালো সাফল্য পেয়েছেন। এ কৃষকদেরই একজন হলেন মাসুদ হোসেন।

মাসুদ হোসেন বলেন, আমি শীত ও গ্রীষ্মকাল দুই মৌসুমেই নানা প্রকার সবজি করে থাকি। উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরামর্শে চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রকলি আবাদ করেছি। জমি তৈরি, সেচ ও জৈব সার দিয়ে এক বিঘা জমিতে ব্রকলি আবাদে ৪ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। আর ব্রকলি বিক্রি করেছি প্রায় ৩৫ হাজার টাকার। আগামীতে আরো বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল উৎপাদনের ইচ্ছা আছে বলে জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন হোসেন জানান, ব্রকলি স্বল্পমেয়াদি ফসল। নগরঘাটা গ্রামের কৃষকরা এ সবজি আবাদ করে প্রথমবারেই ভালো সাফল্য পেয়েছেন। উন্নয়ন প্রচেষ্টার নিজস্ব উদ্যোগেও ১০ শতক পরিমাণ জমিতে ব্রকলি আবাদ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাকি কৃষকরাও ব্রকলি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মাসুদ হোসেনকে দেখে স্থানীয় আরো কয়েকজন কৃষকও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রকলি আবাদ করেছেন। এদের একজন সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, আট শতক পরিমাণ জমিতে ব্রকলি আবাদে তার খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। আর তিনি ব্রকলি বিক্রি করেছেন প্রায় ১৪ হাজার টাকার। তিনি বলেন, এর আগে কখনো ব্রকলি আবাদ করিনি। এ কারণে প্রথমবার অল্প জমিতে পরীক্ষামূলক এ ফসল আবাদ করেছি। এখন আবাদ বাড়াব।

জেলা কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী বলেন, সাতক্ষীরায় ব্রকলির ভালো চাহিদা আছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এ সবজি তেমন উৎপাদন হয় না বলে ঝিনাইদহ ও যশোর থেকে কিনে আনতে হয়। সাতক্ষীরার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে এ সবজি আবাদ করলে লাভবান হবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ব্রকলি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি সবজি। বাজারে এটির চাহিদা ভালো। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক হলেও সাতক্ষীরার কৃষকরা ব্রকলি উৎপাদনে বেশ ভালো সাফল্য পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫-৩০ জন কৃষক ব্রকলি আবাদে লাভবান হয়েছেন। জেলায় এ ফসলের বাণিজ্যিক উৎপাদনের ভালো সম্ভাবনা আছে।

error: লাল সবুজের কথা !!