নওগাঁর মান্দায় কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে লাইব্রেরী উদ্বোধন

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে লাইব্রেরীর উদ্বোধন করা হয়েছে। কাঁশোপাড়া ইউ’পি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লাইব্রেরীর উদ্বোধন করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও ) খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,নওগাঁ জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলা কমিটির প্রধান আতোয়ার রহমান, ইউপি সচীব ইউনুছ আলী, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম,আব্দুল কুদ্দুস,সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম,মর্জিনা খাতুন,তানিয়া ফেরদৌসি,আরিফুল ইসলাম,দেলোয়ার হোসেন,তৌহিদুর রহমানসহ এসটিভি বাংলার সাংবাদিক বুলবুল আহম্মেদ এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক মাহবুবুজ্জামান সেতু প্রমূখ।

উল্লেখ্য, ঝরে পড়া রোধ করতে বর্তমান সরকার শিক্ষার মান-উন্নয়নে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের সেই উন্নয়নের সাথে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো যে যার অবস্থান থেকে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা বিস্তারে ঠিক তেমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান। শিক্ষার মান-উন্নয়নে তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লাইব্রেরী চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টার সময় উপজেলার ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে লাইব্রেরীটির উদ্বোধন করেন। এর আগে মশিদপুর গ্রামে ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি, গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি,মৈনম ইউনিয়ন পরিষদে একটি এবং পরানপুরে একটি লাইব্রেরী চালু করেছেন।

জানাগেছে, জেলার মান্দা উপজেলার সদর থেকে কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ একেবারেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে । উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত প্রত্যন্ত এ ইউনিয়ন।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উদ্যোগ নিয়ে এ প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার মানউন্নয়নে ওইসব স্থানে নতুন নতুন নামে লাইব্রেরীটি চালু করেছেন। উদ্বোধনী দিনে মহানবী (সা:) এর শ্রেষ্ঠ বাণীসহ বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৮২ রকমের বই দিয়ে এ লাইব্রেরীটি চালু করা হয়।

আর এ লাইব্রেরী থেকে অত্র এলাকার কাঁশোপাড়া, নাপিতপাড়া,তেঁতুলতলী,চকউলী সহ প্রায় ১৫/২০টি গ্রামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিত যুবকরা উপকৃত হবেন।
অবসর সময়ে তারা এ লাইব্রেরীতে এসে জ্ঞান চর্চা করবেন। এমন মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুধু এ গ্রামে নয়- শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এমন লাইব্রেরী স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা।
স্থানীয়রা বলেন, লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার হচ্ছে বইয়ের ভান্ডার। যেখানে প্রচুর বই সংরক্ষণে থাকে। বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও আমাদের পক্ষে বই কিনে পড়া সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমাদের এলাকায় কোন লাইব্রেরী ছিলনা। পাঠাগার হওয়াতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। যেখানে অবসর সময়ে আমরা লাইব্রেরীতে বসে বিভিন্ন বই পড়ে জ্ঞান অজর্ন করতে পারব।

কাঁশোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্যা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক সহযোগীতায় লাইব্রেরী চালু করা হয়েছে। আলোকিত দেশ ও জাতী গড়তে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। জ্ঞানের বৃদ্ধি ও প্রসার ঘটাতে প্রত্যন্ত এলাকার ছেলে-মেয়েরা এ লাইব্রেরী থেকে সুবিধা পাবে বলে আমি মনে করি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার মান-উন্নয়নে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় লাইব্রেরী চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর উন্নয়ন হলে একটি উপজেলার উন্নয়ন সম্ভব। লাইব্রেরীর মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ বাড়বে। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা ফিরে আসবে। প্রাথমিক ভাবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ১০টি লাইব্রেরী চালু করা হবে।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে লাইব্রেরীর মাধ্যমে আবারও ফিরে আসুক জ্ঞান চর্চা এমন প্রত্যাশা সকলের।#

error: লাল সবুজের কথা !!