ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ বিক্রি হলো শিবির নেতার কাছে

76

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রবিবার সকাল ১০ টায় ধানদিয়া ফুলবাড়ী ফুটবল মাঠে সদ্য প্রদান কৃত ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে নাহিদ হাসান প্রান্ত (২৪) কে রাখায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য সাহেব আলী, আব্দুল মান্নান খাঁ, মোমিন খাঁ, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এইচ মেহেদী, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আফজাল খান, ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম,মিঠুন দাস, জাকির, আবুজার, রিপন প্রমুখ। ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও প্যানেল চেয়ারম্যান আরিফুল আমিন মিলনের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ৯ টি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, নাহিদ হাসান প্রান্ত ২০১৩ সালে শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিল। তার পিতা নুরুজ্জামান যুবদল করত।
ইউপি নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ইউপি সদস্য পদে লড়েছেন। সে বা তার পরিবারের কেই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত নয়। সুতরাং তার মত কেউ ছাত্রলীগের সভাপতি হলে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য থাকবে না। ছাত্রলীগের পরিবর্তে সে অন্য সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করবে।আশা করব উপজেলা ও জেলা ছাত্রলীগের ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দিবে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সহিদুল ইসলাম বলেন, ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে শিবির কর্মী সভাপতি হলো এটা আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনের জন্য বড় লজ্জার। আশাকরি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক এই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দিবেন। তানাহলে আন্দোলন আরো কঠোর হবে। আমরা এই কমিটি মানিনা।তাছাড়া তাদেরকে অবাঞ্ছিত করা হবে। অধ্যাপক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস বলেন জামাত বিএনপির লোকজন আজ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনে পদপায় এটা খুবই দুঃখজনক। ছাত্রলীগের উর্ধতন নেতাদের এব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ তবিবুর রহমান বলেন, দলীয় কোন্দলের কারনে সংগঠনে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এই প্রান্ত টাকা দিয়ে ছাত্রলীগকে কিনে নিয়েছে। ধানদিয়ার কমিটি বাতিল করে আওয়ামী পরিবারের যে কাউকে সভাপতি করা হোক বলে তিনি দাবি করেন। যুবলীগের আহবায়ক আরিফুল আমিন মিলন বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে আওয়ামীলীগ পরিবারের মুজিব আদর্শের যে কেউ পদ পেতে পারে। জামাত বিএনপি পরিবারের লোকজন টাকার বিনিময়ে আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশ করছে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো এই কমিটি। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন প্রান্ত কখনো ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল না। আমরা যখন ২০১৩ সালে রাজপথে আন্দোলন করেছি সে তখন শিবিরের সাথে জড়িত ছিল। আমাকে কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনে উপজেলা ছাত্রলীগের কেউ জানায়নি।

এব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদীর ব্যবহারিত (০১৭৩৬৮২৮৯৯১) কাছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। বলেন, এখন ও ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়নি। দিলে জানতে পারবেন। প্রান্তোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।আর কমিটি দেওয়া হলে আপনারা জানতে পারবেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনের সাথে তার ব্যবহারিত (০১৭২৯৬৫৪৩৮৫) বারবার যোগাযোগের একপর্যায়ে ফোন রিসিভ করে ব্যস্ত আছি বলে নিজেই ফোন কেটে দেন।

অপর দিকে ধানদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান বলেন গতকাল হঠাৎ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদী ভাই আমাকে ফোন করে পাটকেলঘাটা ডাকবাংলো যেতে বলেন। আমি সেখানে গেলে তিনি সাধারণ সম্পাদক সুমন ভাই স্বাক্ষরিত উপজেলা ছাত্রলীগের প্যাডে প্রান্তকে সভাপতি ও আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একটি কমিটি তুলে দেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন গতকাল শনিবার রাত এগারোটার দিকে ফোনে উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা কমিটির গঠনের কথা স্বীকার করেছেন।

অপর নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তার ফেসবুক আইডি তে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এবং সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক একলক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।