তালায় সাংবাদিক খান নাজমুল ও তার পরিবারের উপর পৈশাচিক হামলা!

18

এস.এম মফিদুল ইসলাম : তালার ঘোনায় ৪০ পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ডেকে এনে সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইনসহ তার পরিবারের উপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ আরিজুল ইসলাম ও তার দোসররা। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার তালার নিজ বাড়িতে ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তালার ঘোনায় পারিবারিক বসত ভিটার দীর্ঘ ৩৫ বছরের যাতায়াতের একমাত্র পথ ক্ষমতার দম্ভে ইসমাইলের পুত্র আরিজুল খাঁ ও তার পুত্র তরিকুল খাঁ ঘিরে দেয়। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় দৈনিক খুলনাঞ্চল ও এই আমার দেশ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইনকে আপোষ মিমাংশার কথা বলে ডেকে নিয়ে রেজাউল এর পুত্র মুকুল হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি বাহিনী তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে পৈশাচিক হামলা চালায়।

এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে নাজমুলের পিতা সাবেক ব্যাংক কর্মচারী আবু হোসেন ও তার ছোট ছেলে মাহবুবের শরীরে গরম তেল ছুঁড়ে মারে। এসময় নাজমুলের পকেটে থাকা ব্যবসায়ীক ২ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার পরিবারের সকল সদস্যদের উপর রড, হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নোলা,ফোলা জখম করে। নাজমুলের মামি কাজল রেখা বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার বাম হাতে আঘাত করে গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনটি ছিনিয়ে নেয় এবং ঘরে রক্ষিত নগদ ৭৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এসময় কাজল রেখার স্বামী এনায়েত আলীর পুত্র বক্কারের মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তালা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

বর্তমানে সাংবাদিক খান নাজমুল ও তার পরিবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে।

এ ব্যাপারে তালা থানায় খান নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ০৮, তারিখ: ১৬/০৪/২০২০ ইং। মামলার আসামীরা হলেন ঘোনা গ্রামের রেজাউলের পুত্র মুকুল হোসেন (৩৫), মৃত ইসমাইলের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৫৫), আরিজুলের পুত্র তরিকুল (২৮), মাঝিয়াড়ার ইদ্রিসের পুত্র খালিদ হোসেন (৩৮), মৃত ইসমাইলের পুত্র রেজাউল ইসলাম (৬০), আরিজুল ইসলাম (৫৫), আরিজুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা (৪০), জেঠুয়া গ্রামের আলম সরদারের স্ত্রী রীমা (২৪) এবং তরিকুলের স্ত্রী পুতুল (২৮)।

এ ব্যাপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী রাসেল জানান, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে,তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার বাদী খান নাজমুল হুসাইন জানান, বিবাদমান রাস্তাটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরে আমাকে ডেকে নিয়ে আমার ও আমার পরিবারের উপর পৈশাচিক হামলা চালায়। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের নিকট দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে বিবাদী আরিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ পরিবারটিকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের জোর দেখে নেব।