তালায় উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন উত্তেজনা-সহিংসতার পর এখন থমথমে পরিবেশ

6
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

এসএম বাচ্চু.তালা: উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা,উৎকন্ঠা-সহিংসতার পর এবার কেন্দ্রের দিকে অপলক দৃষ্টি যখন সকলের, তখন স্থানীয় পর্যায়ে চলছে ঝড়ের পরবর্তি পরিবেশ পিন-পতন নিরবতা। তবে কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষনার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা বোঝা বা দেখার জন্য করতে হবে আরো ক্ষনিক কাল অপেক্ষা । উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ও তালার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ।

স্থানীয় সকল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে উঠে আসা মন্তব্য , বিশ্লেষন ও মূল্যায়ন পর্যালোচনায় দেখা যায়,স্বাধীনতা পরবর্তি ৪৭ বছরে তালা উপজেলাসহ সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় প্রয়াত সৈয়দ কামাল বখ্ত ছাকী, মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান,মোঃ মুনসুর আহম্মদ,নজরুল ইসলামের মতো অসংখ্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সম্পন্ন ,মেধাবী ও দেশ- দরদী নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্বে প্রত্যন্ত জনপদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সংগঠন।

কিন্ত দলীয় বা রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী নিয়ে সৃষ্ট বর্তমান সময়ের এমন সহিংস পরিবেশ এর আগে আর কেউ কখনো দেখেনি। এর কারন অনুসন্ধানে শীর্ষ রাজনৈতিক থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের প্রায় একই ধরনের অভিমত, আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় সংগঠনে কোন প্রকার প্রয়োজন ছাড়াই ঢোকানো হয়েছে রাজনৈতিক উচ্ছিষ্ট,জনবিচ্ছিন্ন কিছু সুবিধাবাদি পতিত রাজনীতিককে। তারা অন্যদলে থেকে যেমন সেই দলকে নিঃশ্বেস করেছে তেমনি বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে তিলে তিলে নিঃশ্বেস করছে গণমানুষের দল আওয়ামী লীগকে। উপরন্ত: তারা দলে নতুন আগন্তকদের নিয়ে সৃষ্টি করেছে বিশেষ সুবিধাবাদি শ্রেনী,যারা নিজেরা যেমন ইতোমধ্যে হাইব্রীড হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছেন তেমনি সাধারন মানুষের সম্মানহানি,দখলবাজির মাধ্যমে জনপ্রিয় এই দলটিকে জনগনের প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে।

এখন তারা ক্ষমতার আরো উচ্চ শিখরে আরোহন করার অভিপ্রায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক গ্রুপ সৃষ্টি করে নিজের দলের নেতাদের লাঞ্চিত-আহত করার মতো ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হচ্ছেনা। ফলে রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মুখে এখন শুধু একটাই শ্লোগান দলে অনুপ্রবেশকারি অসাধু রাজনীতিকদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের ক্ষমতার উৎস চিহ্নিত করে এখনই সমূলে বিনাশ করা, নইলে দেশের প্রাচীনতম ও জনপ্রিয় এ দলকে ভবিষ্যতে আরো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এবং পদে পদে তার মাশুল গুনতে হবে।