তালার জেঠুয়া বাজারে সরকারি জমি দখল নিতে চাচার বেসামাল কান্ড

11
লাল সবুজের কথা- Lal Sobujer Kotha

এস এম বাচ্চুু, তালা প্রতিনিধি : তালার জেঠুয়া বাজারে ভাইপোর দখলে থাকা পেরিফেরি ভুক্ত ১ শতক জমি জোরদখল নিতে চাচা লতিফ পাড় বেসামাল হয়ে পড়েছে। তার একের পর এক কর্মকান্ডে দিশেহারা হবার উপক্রম হয়েছে ভাতিজা বেলাল হোসেন পাড়’র। এই জমিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে চাচার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বেলাল হোসেন কথিত ডাকাতি মামলায় জেল খেটেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে- চাচা লতিফ পাড় ওই জমি দখল নিতে ইতোমধ্যে ১৪ দলীয় জোটের অফিস, আসবাবপত্র এবং জাতীর জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর সহ লুটপাট চালিয়েছে।

বর্তমানে জমি দখল নিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠা আব্দুল লতিফ পাড়ের হামলা ও হুমকির মূখে অসহায় অবস্থায় রয়েছে তার ভাতিজা বেলাল হোসেন পাড়।

ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার জেঠুয়া বাজারে সরকারি ১ নং খাস খতিয়ানের ৪২২ দাগের পেরিফেরিভুক্ত ২শতক জমি তার দাদা আতাউল্যাহ পাড় বিধি মোতাবেকে ভোগদখলিকার ছিল। মৃত্যর আগে তিনি উক্ত ২ শতক জমি তার পুত্র আব্দুল লতিফ পাড় এবং এনায়েত আলী পাড়কে ভাগ করে দখল দেন। এমতাবস্থায় আব্দুল লতিফ পাড় তার প্রাপ্ত ১ শতক সরকারি জমি আহাদ আলী এবং মিজানুর রহমান নামের দুই ব্যক্তির কাছে অবৈধ ভাবে বিক্রি করে টাকা হাাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা ওই ১ শতক জমি তাদের নামে বন্দোবাস্ত নিয়ে সেখানে দোকান নির্মান করে ভোগদখল করছে। কিন্তু আব্দুল লতিফ পাড় তার প্রাপ্তির সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনায়েত আলী পাড়’র ছেলে বেলাল হোসেন’র ভোগদখলে থাকা অপর ১ শতক জমি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে। যদিও বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সরদার রফিকুল ইসলাম এবং আওয়ামীলীগ নেতা রামপ্রসাদ দাস’র নামে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে ১৪ দলীয় জোটের অফিস করার জন্য সুযোগদেন। ফলে এই অফিস থেকে একাধিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনার কাজ করা হয়। এরপরও ধূরন্তর আব্দুল লতিফ পাড় ১৪ দলীয় জোটের অফিস সহ ওই জমি কৌশলে জোর দখল নেবার জন্য অপচেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু তা না পেরে লতিফ পাড় কৌশলে একটি ডাকাতি মামলায় বেলাল হোসেনকে আসামী করিয়ে জেলে পাঠায়!

বেলাল হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র করে জেলে পাঠানোর পর আমাদের দখলে থাকা পেরিফেরি জমি কৌশলে দখল করতে চাচা আব্দুল লতিফ নিজ এবং তার মেয়ে বিকুলী পারভীনের নামে বন্দোবাস্ত পাবার প্রক্রিয়া শুরু করে। জেল থেকে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা পারভীন ২৯/০৭/১৫ ইং তারিখে ৩১.৪৪.৮৭০০.০৯০.১১.০০১.১৫-৮০৪ নং যুক্ত স্মারকে উক্ত ২শতক পেরিফেরি ভুক্ত খাস জমির মধ্যে ১ শতক জমি আব্দুল লতিফ কর্তৃক হস্তান্তর এবং অপর ১ শতক জমি “আমার” ধান ব্যবসার মাধ্যমে ভোগ-দখলীয় বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সতাক্ষীরা’র নিকটে রিপোর্ট প্রেরন করেন। এরপরও ওই জমি আব্দুল লতিফ দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখায় ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন প্রতিকার পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক’র নিকট একটি আবেদন করেন।

এবিষয়ে জেঠুয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, খেশরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গগন মন্ডল উক্ত জমির সঠিক মালিকানা তদন্ত করতে আসবেন- বিষয়টি জানতে পেরে গত ১০ জানুয়ারী ভোররাতে লতিফ পাড়ের স্ত্রী ফাহিমা বেগম এবং মেয়ে বিকুলী পারভীন সহ দূর্বৃত্তরা বেলাল হোসেন’র দখলীয় জমিতে স্থাপিত ১৪ দলের অফিস, অফিসের আসবাবপত্র এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর সহ লুটপাট চালিয়ে ঘর দখলের চেষ্টা করে। এসময় বাজারের লোকজন এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে আসলে তারা দ্রæত পালিয়ে যায়। জমি ও ঘর দখলে ব্যর্থ হয়ে লতিফ পাড়’র স্ত্রী এবং মেয়ে প্রতিনিয়ত বেলাল হোসেন সহ তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উঠেছে। এছাড়া জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস সহ বেলাল হোসেন’র পক্ষের লোকদের সামাজিক ভাবে হেয় ও প্রশাসনিক হয়রানী করতে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন ন্যায় সঙ্গত বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।