ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প: শিক্ষামন্ত্রী

17

ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

আজ রোববার বেলা ১১ টার সময় রাজধানীর ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে একাদশ শ্রেণির ছাত্রদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জনাবে তিনি একথা বলেন।

এসময় সারাদেশে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্লাস শুরু উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর উদ্বোধন করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করতে ইতোমধ্যে ১০ তলা নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। যার কাজ চলমান। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা গুণগত পরিবেশ নিশ্চিতে নতুন লাইব্রেরি তৈরি করা হবে। তৈরি করা হবে নতুন প্রসাশনিক ভবন। ছাত্রদের অবাসন সংকট দূর করার জন্য নতুন হল তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা কলেজের পুরানো হলগুলো নতুন করে সংস্কারের জন্য এক সপ্তহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার করা হবে। অডিটোরিয়াম অনেক গরম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঠান্ডা করার জন্য ‘এসি’ পাঠানোর হয়েছে। তবে এখনও এসি লাগানো হয়নি কেন এটারও কারণ জানবো। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে এসি লাগানো হবে।

নাহিদ বলেন, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সৃজনশীলতার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান কমে নাই। শিক্ষায় অনেক উন্নতি হয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের মান অনেক উন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনেস্কোসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশ রোল মডেল। তিনি ঢাকা কলেজকে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ উল্লেখ করে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। আজকের নবীন ছাত্রদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জাতির জ্ঞান প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। নিজেদেরকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। জাতির প্রত্যাশা পূরণে তাদেরকে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নবীনদেরকে অবশ্যই পাঠ্যপুস্তক ও ক্লাশের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সাথে সাথে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বিশাল জগৎ সম্পর্কে জানতে হবে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লাহ্-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা প্রশাসক আবুসালেহ মো. ফেরদৌস খান, ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামীম আরা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।