ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্বামী-শ্বাশুড়ীর বিরুদ্ধে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

11
লাল সবুজের কথা- Lal Sobujer Kotha

সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামে স্বামী-শ্বাশুড়ীর বিরুদ্ধে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ ও থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে নিহতের স্বজনরা।’

সোমবার শৈলকুপা উপজেলার ভাইট বাজারে মহাসড়কে লাশ রেখে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে, শত শত গ্রাম বাসী। সকাল সাড়ে ৮ থেকে বেল ১১ টা পযুন্ত এই অবোধর চলতে থাকে। অবরোধে কবলে পড়ে প্রায় ৫ কিমি. ব্যাপী তীব্র যান জোটের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে অবরোধ কারিরা সোনিয়ার হত্যাকারী অভিযোগ করে সোনিয়ার শ্বাসুড়ী মর্জিনা খাতুন ও শ্বশুর ফিরোজের ফাঁসি দাবী করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, প্রেমের সর্ম্পকের জেরে প্রায় ৮ মাস আগে আগে উপজেলার গোয়ালখালি গ্রামের ফিরোজ হোসেনের মেয়ে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী সোনিয়ার বিয়ে হয় একই গ্রামের রাস্তার এপার ওপার বাদশা হোসেনের ছেলে সজিবের সাথে। বিয়ের পর থেকে সোনিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

সোনিয়াকে বাবা বাড়ীর কার সাথে কোন যোগাযোগ করতে দিত না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সকাল সময় একটি জালানা হীন ঘরে আটকে রাখত তাকে। এরই জের ধরে রোববার সকালে সোনিয়াকে হত্যা করে গলায় ওড়না দিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পলিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নিহতের পিতা-মাতা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। সেই সাথে আটক হওয়া শ্বাশুড়ী ও শ্বশুরকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ করে তার স্বজনরা। পরে থানায় মামলা ও দোষিদের গ্রেফতারে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘন্টা পরে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শৈলকুপ সার্কেল) তারেক আল মেহেদি বলেন, গতকাল সোনিয়া আত্মহত্যা করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার একটি ডায়রি পাওয়া গেছে সেখানে উল্লেখ আছে তার মৃত্যুর জন্য কে কে দ্বায়ি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয় এলে হত্যা মামলা আর আত্মহত্যার রিপোর্ট এলে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হবে।