সর্বশেষ সংবাদ

জৈন্তাপুরের লালাখাল এখন পর্যটকদের জন্য আর্কষণীয় হয়ে উঠেছে

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল যেনো একটি নীল নদ, স্বচ্ছ পানিতে নীল আকাশের রং, দু’পাশে পাথুরে টিলা আর সবুজ বন, অনতিদূরে ভারতের মেঘমাখা আকাশছোঁয়া পাহাড়। পাহাড় আর টিলার ঢালুতে বিস্তৃত চা গাছের মায়াবী বাগান যেনো নিসর্গকে করেছে আরো বেশি ব্যঞ্জনাময়। এপার ওপার দিয়ে বিনে সুতে মালা গাঁথছে ছোট্ট নৌকাগুলো।

লোকজন আসে, প্রাণভরে দেখে আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলে পুনরায় দেখার আকুতি নিয়ে চলে যায় আপন গন্তব্যে। প্রকৃতির তারিফ করা তাদের গল্প আর ছবিগুলো কেবলই ডানা মেলে, অনুপ্রাণিত করে দেশ-বিদেশের মানুষদের। প্রলুদ্ধ হয়ে আরও বেশি দর্শক আসে, এভাবে মানুষের আনাগোণা কেবলই বাড়তে থাকে রৃপের রাণী লালাখালে।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রকৃতির এক অপরূপ দান লালাখাল। প্রকৃতি তার আপন হাতে একান্ত খাতির করে রূপ-সৌন্দর্য্যরে সবটুকু দিয়ে সাজিয়েছে এ স্থানটিকে। পাহাড়-টিলা-অরণ্য আর নদী যেনো ব্যতিক্রমি মিতালী পাতিয়েছে এখানে। সারী নদী লালাখালের প্রাণ।

ভারতের জৈন্তা পার্বত্য জেলার মিহ-মাইথ্রু নামক স্থান থেকে উৎপত্তি লাভ করে আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে লামু ও উমসিয়ারাং নদীকে সঙ্গী করে এটি বাংলাদেশে লালাখাল দিয়ে প্রবেশ করেছে। প্রাচীণকালের কোন এক সময়ে রূপের টানে দুর্গম পাহাড়ী দুরাঞ্চল হতে ছুটে এসেছে সারী, মিলিত হয়েছে লালাখালে, নিজের পাতানো মিতালীকে সে যেনো করেছে আরও নিখুঁত আর আর্কষণীয়

লালাখাল হতে সারী নদী ক্রমশ: চলে এসেছে পশ্চিম দিকে, সিলেট-তামাবিল সড়ক ভেদ করে গোয়াইন নাম ধারণ করে অগনিত জনপদ মাড়িয়ে সে ছুটে গেছে সাগরের পাণে। লালাখাল হতে সে একাই আসেনি, যেন সঙ্গী করে নিয়ে এসেছে রূপের ঢালি। আকাশের নীল রং নিজের মধ্যে ধারণ করে সে নিজেকে অপ্সরী করে ক্ষান্ত হয়নি, চলতি পথে সর্বত্রই সে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

তাই আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরাও তার রূপ-সৌন্দর্য উপলব্ধির জন্য নদী ভ্রমণে বের হন। সারিঘাট হতে নৌকা ভ্রমণ করে তারা চলে যান লালাখালে। প্রাণজুড়ানো সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যার আছে, কেবল সে-ই বলতে পারবে কত উপভোগ্য সে ভ্রমণ! প্রকৃতির রূপ অরূপের মতো নতুন রূপে ধরা দেয় দর্শনার্থীদের মনে।

লালাখাল অপরূপ সৌন্দর্যকে আপনিও উপভোগ করতে পারেন সহজে। সিলেট থেকে জাফলং বা গোয়াইনঘাটগামী বাসে চেপে সারিঘাট যেতে সময় লাগে মাত্র এক ঘন্টা। সেখান থেকে নৌকা রিজার্ভ করে নদী পথে দেখে আসতে পারেন লালাখাল। বিকল্প হিসেবে সারিঘাট থেকে অটোরিক্রা কিংবা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে সরাসরি ঢুপি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চলে যাওয়া সড়কে পাখিবিল-কামরাঙ্গী হয়ে যেতে পারেন লালাখাল। সেখানে আছে রিসোর্ট, অত্যাধুনিক রেস্তোরা। জাফলং যাওয়ার পথে সহজেই এ উপভোগ্য স্থানটি দেখে যায়।

জৈন্তাপুর লালাখাল

এবারের ঈদে আপনিও বেড়াতে যেতে পারেন সেখানে। অতি সম্প্রতি পর্যটকদের নদী পথে যাতায়াতের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা পরিষদ হতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট পর্যটন বহনকারী নৌকায় চালকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যটক করপোরেশনের অর্থায়নে লালাখাল নামক স্থানে নৌকা থেকে নিরাপদে উটা-নামার জন্য একটি ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মৌরিন করিম, জানান পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্নে রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক পর্যটকদের বহনকারী নৌকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সারি জিরো পয়েন্ট হতে লালাখাল পর্যন্ত পর্যটকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কেউ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সার্বিক সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

অপরদিকে সারিঘাট পর্যটক বহনকারী নৌকা শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারি হারিছ উদ্দিন জানান, ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের সুবিধার্তে ৩৫/৪০ টি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি নৌকায় ০৫টি করে লাইফ জ্যাকেট রাখা হয়েছে। প্রতি নৌকায় ১০ জন করে যাত্রী বহন করা হবে ও ০৩ ঘন্টার জন্য ভাড়া নির্ধারন করা হযেছে ১২০০ টাকা করে।

error: লাল সবুজের কথা !!