সাতক্ষীরায় টক অফ দ্য নিউজ চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ সভাপতি আসমাউল

514

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলায় টক অফ দ্য নিউজ এ পরিণত হয়েছে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের মাদকাসক্ত, বিবাহিত,দখলবাঁজ চাঁদাবাজি সভাপতি আসমাউল হুসাইন।

১ ও ২ জানুয়ারি অনলাইন ও দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সকাল দশটার আগেই আশাশুনির সব পত্রিকা বিক্রি হয়ে যায়। মানুষজন পত্রিকা নেওয়ার জন্য পত্রিকা অফিস সহ বিভিন্ন হকার্সের কাছে ফোন দিয়েছে।

আজ ২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার পাঠকনন্দিত দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় “সাদিকের সহযোগীরা আশাশুনিতেও” ‘এনজিও কর্মীকে আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগে সভাপতিসহ ৬ জনের নামে মামলা’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরপরই আলোচনায় চলে চলে আসে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক বর্তমানে জেলহাজতে রিমান্ডে আছেন যিনি তার উত্তরসূরী আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের মাদকাসক্ত বিবাহিত টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজি আসমাউল হুাসাইন।

এমন সংবাদে পুরো আশাশুনি উপজেলা ব্যাপী আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা তার কাছ থেকে নিগৃহীত হয়েছে, লাঞ্চিত-বঞ্চিত, বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হয়েছে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়েছে। অনেকেই মিষ্টি খাচ্ছে।

তবে ইতিমধ্যেই তাকে বাঁচানোর প্রধান হাতিয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বিভিন্ন দপ্তরে দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করেছে,শোনা যাচ্ছে তারসাথে নাকি আরো ২ জন আ’লীগের নেতা আসমাউলকে বাঁচানোর জন্য তদ্বির করছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে মাদকাসক্ত আসমাউল যখনই এরকম সমস্যায় পড়ে তাকে বাঁচানোর জন্য তিনি সব সময় এগিয়ে আসেন। তার প্রশ্রয়ে আসমাউল এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সকলের। আসমাউল-এর প্রভাবের কারণে আশাশুনিতে কেউ শান্তিতে না পারে চাকরি করতে, না পারে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে। প্রতি মাসে তার মাসোহারা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে সাধারণ জনগণ।

পত্রদূত এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আসমাউলের অনুসারীরা জানতে পারার পর পরই এদিকে ওদিকে দৌড়াদৌড়ি করে গা ঢাকা দিয়েছে। ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত আসমাউল এলাকা ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না। আসমাউল তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ করে রাখছে। আসমাউল সহ তার দেহরক্ষীরা এখন এলাকাছাড়া। বাদিকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

গতকাল (২ জানুয়ারী) আসমাউল এর বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আসমাউল সহ তার আরও দুইজন দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়েছে, জয়নাল ও রানা ০১৭৫৯ ৫৬৪৪৩৮ ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে গত ৩১ শে ডিসেম্বর জয়নাল (২৭) পিতা -আ: বারী সরদার, রানা @গুটি রানা পিতা- ছট্টুল সরদার সাং ও থানা- আশাশুনি,জেলা-সাতক্ষীরা, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে। এমনকি বাদী যদি মামলা তুলে না নেয় তাহলে তাকে আশাশুনিতে থাকতে দেয়া হবেনা। প্রাণনাশ করা হবে, তাকে মেরে ফেলা হবে। শেষ পর্যায়ে তারা দুজন জয়নাল ও রানা বাঁদিকে পাঁচ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়।

অপরদিকে গত ১লা ডিসেম্বর (বুধবার) আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের মাদকাসক্ত সভাপতি আসমাউল হুসাইনের ব্যবহৃত নাম্বার ০১৭১৪৫২৯২৮৫ নম্বর থেকে বাদিকে মোবাইলে কল করে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। বাদি আশাশুনি থানায় উপস্থিত হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছে।

সরেজমিনে আশাশুনি উপজেলায় যেয়ে দেখা গেছে মাদকাসক্ত আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের মাদকাসক্ত সভাপতি আসমাউল এর বিরুদ্ধে মামলা, সংবাদ প্রকাশ এবং থানায় ডায়েরী হওয়ায় সবাই খুশি। এখন সবার একটাই প্রত্যাশা, একটাই চাওয়া বারবার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তাকে জেলহাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তিনি যেনো কোন সুপারিশ না করে আসমাউলকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে না পারে এবং আসমাউল এর অপকর্ম এই অপকর্মের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করে এলাকার সাধারণ জনগণ। তবে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ এখন হার্ডলাইনে রয়েছে।