ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলন ,ডাকসু নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবি

39
ডাকসু

ডাকসুসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলন।বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, পিইসি পরীক্ষা বাতিল ও নিরাপদ ক্যাম্পাস।

সম্মেলনের আলোচনা পর্ব শেষে মাসুদ রানাকে সভাপতি, জয়দীপ ভট্টাচার্যকে সহসভাপতি, রাশেদ শাহরিয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একটি সুদৃশ্য র‌্যালি। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, প্রেস ক্লাব, পল্টন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। বিকাল ৪টায় রাজু ভাস্কর্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সভাপতি কমল সাঁই।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শাসকশ্রেণী শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার অধিকার হরণ করছে। অন্যদিকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। নিজেদের লুণ্ঠন অব্যাহত রাখতে নির্বাচনের আয়োজন করে কিন্তু ছাত্রদের গণতন্ত্র চর্চার পীঠস্থান ডাকসু নির্বাচন দেয় না।

নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে ছাত্র স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নিতে পারবে না, তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, গণতন্ত্রের বুলি আউরে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে। তাই আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে ৫৭ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষণ্ণ করা ও শিক্ষার অধিকার হরণ- এগুলো কোনোটাই রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। আসল রোগ হল পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদই শিক্ষাকে মুনাফার পণ্যে পরিণত করেছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নাঈমা খালেদ মনিকা। তিনি আলোচনা সভা শেষে মাসুদ রানাকে সভাপতি, জয়দীপ ভট্টাচার্যকে সহসভাপতি, রাশেদ শাহরিয়ারকে সাধারণ সম্পাদক, তাজনাহার রিপনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত হয়।