চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসত ঘরবাড়ি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদী ভাঙ্গনে ৭০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বৈলমনদিয়ারখাতা,কড়াইবরিশাল, মনতোলা, শাখাহাতি, গাজীরপাড়া, নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়ারচর, তেলীপাড়া, বজরাদিয়ারখাতা, খেরুয়ারচর,ফেইচকারচর, রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা, জোড়গাছ মাঝিপাড়া,খরখরিয়া , থানাহাট ইউনিয়নের পুটিমারী কাজলডাঙ্গা, পুটিমারী, হাটিথানা, রাজারভিটা, কাঁচকোল।

রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মজারটারী, ফকিরেরহাট, কালিরকুড়া প্লাবিত হয়ে এসব এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম স্থাগিত হয়ে গেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধির ফলে, কোন বাড়িতে কোমর পানি এবং বসত ঘরে হাঁটু পানি । প্লাবিত এলাকার গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। কেউ কেউ বাধের রাস্তা, আশ্রায়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে অবস্থান করছে।

বিভিন্ন এলাকায় স্রোতের তীরে অনেকের পাটের জাগ ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে গেছে। পুকুরের পাড় ডুবে গিয়ে নদীতে মাছ ভেসে গেছে।

মানু মেম্বার চর এলাকার মুকুল মিয়া (৪৫) জানান, গতকাল বসত ঘরে হাঁটু পানি হওয়ায় পরিবারের মহিলা ও শিশুরা কষ্ট করে উঁচু চৌকিতে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদি পশু নিয় পুরুষরা বাধে অবস্থান করছে। জোড়গাছ মাঝিপাড়া ভাঙ্গনের শিকার অনীল জেলে (৪৫) জানান, ভাঙ্গনের তীব্রতা এত যে কখন জানি আমার ঘর ভেঙ্গে যায় ।বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত বাড়ি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজগার আলী সরকার জানান, নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বন্যার্তদের সাহায্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৯ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

error: লাল সবুজের কথা !!