চারুকারু শিক্ষার আলোকিত প্রতিষ্ঠান কেশবপুরে চারুপীঠ আর্ট স্কুল

আজিজুর রহমান, কেশবপুর থেকে : যশোরের কেশবপুরে চারুপীঠ আট স্কুল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছিলো ২০১৩ সালে । সাংস্কৃতিক কর্মী উৎপল দে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ছোট এক ভাড়া ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ছোট্ট ছোট্ট সোনামনি দের রঙিন তুলির আঁচড়ে যেন আলোকিত হয়ে উঠল ছোট্ট সেই ঘরটা। সেই আলোর প্রভা আজ কেশবপুরকে আলোকিত করে চলেছে। বর্তমানে চারটি শাখায় প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার সকাল- বিকাল প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে অ্কংন শিখছে। প্রতিবন্ধী ও অটিজম ২৬ জন শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চিত্রাংকন শেখাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৪ সালে সাংস্কৃতিক বিষয়ক শিক্ষাবোর্ড ধ্রব পরিষদ বাংলাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন লাভ করে।

অনুমোদন লাভের পর থেকে চারজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক নিবেদিত ছোট্ট ছোট্ট এসব শিক্ষার্থীদেরকে হাতে ধরে লাল-সবুজের পতাকা থেকে শুরু করে শ্রেণী ও বয়স উপযোগী নানা ধরনের চিত্র শেখাতে। প্রশিক্ষকদের খুব যত্নে আর পরিচালকের একনিষ্ঠ পরিচালনার ফলে রঙের বাহারে এবং সঠিক প্রয়োগের ফলে এসব শিক্ষার্থীদের হাতে যেন জীবন্ত ও বাস্তব হয়ে উঠে চিত্রগুলো।

চারুপীঠ আর্ট স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। আবার অনেকে এখন স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি অথচ এই আর্ট স্কুলের মাধ্যমে রঙিন পেন্সিলের সব রঙ যেন তার মনে গেথে গেছি। চারুপীঠ আর্ট স্কুলে ক্ষুদে ক্ষুদে এসব শিক্ষার্থীদেরকে শুধু যে অংকনই শেখানো হয় তা নয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুলোতে এসব ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে আয়োজন করে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। আর সেসব আয়োজনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাতো আছেই। বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতাই অংশ নিয়ে বেশ সাফল্যে দেখিয়েছি এ প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা, জেলায় ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে সাংস্কৃতিক কর্মী উৎপল দে। চারুপীঠের প্রাক্তন ছাত্রী তিথি দে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকারু বিভাগের ছাত্রী। বর্তমানে ৪টি কেন্দ্রে ১৮৫ জন শিক্ষার্থী অঙ্কন শিখছে। তাদের শেখাতে রয়েছে ৪ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক। ৪ বছর মেয়াদি চারুকারু কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া প্রতিবছর ১২ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় শিক্ষাবৃত্তি। ক্ষুদে শিক্ষাার্থী আহনাফ, শুচি, আদিত্য জানান স্যাররা খুবই আদর করে আমাদের হাতে ধরে ছবি আকানো শেখায়। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চারুকারুতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি আরেফিন সিদ্দিক নিকট হতে সন্মননা ক্রেস্ট, কেশবপুর খেলাঘর আসর, কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ, ডাক্তার হাসনাত ফাউন্ডেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এমএসডবলু, বাংলাদেশ দলিত মন্ঞ, রবীন্দ্রÑনজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদ তাদের কে সন্মাননা প্রদান করেন। শিক্ষার্থী জয় ধর, জান্নাতুল মাওয়া ও আজিজুল হাকিম সিয়াম বলেন চিত্রাংকনের পাঠদান, ব্যবহারিক থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয় খোঁজ খবর রাখেন স্যাররা । এছাড়া কাগজ কেটে নকশা, আলপনা ,মুখোশ তৈরী .মাটির উপকরণ তৈরী, জল রং শিখি ।

এই ব্যাপারে কথা হয় চারুপীঠের অভিভাবক কেশবপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক জেসমিন নাহারের সাথে, তিনি বলেন- আমার সন্তান আবরার জাহান হৃদ্যর হাতে খড়ি এখানে । সে পেনসিল ধরতে পারতো না । এখানে সে পেনসিল ধরা, ছবি আঁকা শিখেছে। শিক্ষকরা অত্যান্ত যত্ন সহকারে ছবি আঁকা শেখায় ।

চারুপীঠ আর্ট স্কুলের সভাপতি মদন সাহা অপু বলেন বলেন- সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাবে অনেকদুর। ফলে আমাদের প্রজন্ম আর্ট শেখার পাশাপাশি জাতীয় দিবসগুলোসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবে। কেশবপুরে চারুপীঠ আট স্কুলের পরিচালক উৎপল দে সাথে কথা হলে তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের আধুনিক মানসন্মত চারুকারু শিক্ষায় বিকাশিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলি। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মডেল হিসেবে রূপ নিবে এই স্কুল।

কেশবপুর সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডাক্তার গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কেশবপুরের চারুপীঠ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানটিতে আঁকা শিখছে। প্রতিষ্ঠানটি এ ধারা অব্যাহত রাখুক এই কামনাই করি।

error: লাল সবুজের কথা !!