চাকরি তার পরিবার পরিকল্পনায়, ডিউটি হানিফ পরিবহনে!

355
চাকরি তার পরিবার পরিকল্পনায়, ডিউটি হানিফ পরিবহনে!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বছরের পর বছর অফিস না করে সরকারী কোষাগার থেকে টাকা উত্তলোন করে যাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাবু। তিনি সাতক্ষীরা তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। একই সাথে মেহেদি হাসান বাবু ঢাকা হানিফ ফুডস্ এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

যদিও তিনি বাইরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকু’র এপিএস পরিচয় দিয়ে থাকেন আবার কখনো কখনো হানিফ এন্টারপ্রাইজের জিএমও পরিচয় দেন। যে কারনে বছরের প্রায় ১২ মাসই তাকে ঢাকাতে অবস্থান করতে হয়। সেখান থেকেও বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন ফন্দি ফিকির করে বাগিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। যার কারনে ঢাকার শ্যামলীতে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয় তাকে। এসব কারনেই মূলত তার সরকারী নিজ কর্মস্থল তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সারা মাসই অনুপস্থিত থাকতে হয়। মাসের যে কোন একদিন এসে তালা সোনালী ব্যাংক থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করে থাকেন মেহেদি হাসান।

হানিফ পরিবহনসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য ও দালালির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে একেবারে কম নয়। মেহেদি হাসান বাবুর বাড়ী তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে। বাবার নাম কালাম শেখ। তার নিজ ইউনিয়ন খেশরার পরিবার পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিদর্শক হলেও নিজ কর্মস্থলে তাকে কখনো দেখা যায়না বলে অভিযোগ নিজ গ্রামবাসীর। মাঠ পর্যায়ে ফ্যামিলি প্লানিং কর্মী ও পরিবার কল্যাণ সহকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম পরিচালনা ও মনিটরিং এর কথা থাকলেও সেখানে কখনো দেখা যায়না খেশরা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিদর্শক মেহেদি হাসানকে।

প্রতি মাসে বাধ্যতামূলক স্যাটেলাইট ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন একটি করে ওয়ার্ডে মিটিং করার বিধান থাকলেও স্যাটেলাইট ক্লিনিকের কোন কার্যক্রমে আজও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি মেহেদি হাসানকে। অথচ এই স্যাটেলাইট ক্লিনিক কার্যক্রমের সদস্য সচিব খোদ মেহেদি হাসান। যেখানে সদস্য রয়েছেন ইউপি মহিলা মেম্বর। তাদের অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের কোন কার্যক্রমে মেহেদি হাসান আসেন না। খোজ নিয়ে দেখা গেছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা মাসিক সমন্বয় মিটিংয়েও অনুপস্থিত থাকেন তিনি। তবে এলাকাতে নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর বলে জাহির করেন এই মেহেদি হাসান।

যে কারনে তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। জানা গেছে ফিল্ডের সমস্ত কাজ পাশ্ববর্তী খলিষাখালী ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সুব্রত কুমার বৈদ্যকে দিয়ে করান। এমনকি অফিসের কাগজ কলমের কাজও এই সুব্রত কুমার বৈদ্য সম্পন্ন করে মেহেদি হাসানের শিখিয়ে দেওয়া হুবহু ইনিশিয়াল স্বাক্ষর দিয়ে জমা দিয়ে থাকেন। তার বিনিময়ে প্রতিমাসে সুব্রত কুমার বৈদ্যকে কিছু টাকাও গুনতে হয় মেহেদি হাসানকে।

অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সেবা সাধারন মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছেন। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী এমনকি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শককে স্ব স্ব কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তা না হলে সংশিলিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অথচ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রতি বৃদ্বাঙ্গুলি দেখিয়ে দূর্নীতিবাজ মেহেদি হাসান অফিস না করে বহাল তবিয়াতে ঢাকাতে অবস্থান করে হানিফ এন্টারপ্রাইজে চাকরি করছেন। ২০১১ সালে ১৩ জানুয়ারী মেহেদি হাসান তালা উপজেলার খেশরা পরিবার পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকে এখনো পর্যন্ত অফিস না করে বহাল তবিয়তে বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা: রওশনারা বেগম ও তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে মেহেদি হাসান ঢাকাতে আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হানিফ এন্টারপ্রাইজে চাকরিরত রয়েছেন। আর এই সীমাহীন অনিয়ম দূর্নীতি করে টিকে থাকতে তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে পাটকেলঘাটায় অবস্থিত বর্তমান বাড়ীতে কয়েক দফায় দাওয়াত করে ভূড়িভোজ করিয়ে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়েছেন মেহেদি হাসান।

তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এর ব্যবহৃত ০১৭১৬৮৪৮২০৫ নং মোবাইল ফোনে মেহেদী হাসান বাবুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেহেদী হাসান আমার অধিনস্থ কর্মচারী। তিনি অন্য কোথাও চাকরী করেন বলে তার জানা নেই। তিনি ফিল্ডে অনুপস্থিত থাকেন বলে তার কাছে অভিযোগ রয়েছে।’ তবে স্থানীয়রা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনেক কর্মচারীই জানান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সহযোগীতায়ই মেহেদী হাসান দপ্তরের বিধি পরিপন্থি কাজ করতে সক্ষম হচ্ছেন। এই দুর্নীতিবাজ মেহেদি হাসানের ক্ষমতা এতই বড় তিনি নিজেই যেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কারন দেশ ত্যাগ করলেও তার কোন ছুটি লাগে না। কারন তিনি নিজেই ত বছরের পর বছর অফিস করেন না। সাতক্ষীরা ভোমরা ইমিগ্রেশনে খোজ নিয়ে জানাগেছে গত এক বছরে মেহেদি হাসান কমপক্ষে ৫/৬ বার পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন।

অথচ সরকারি কোন কর্মকর্তা ও কমচারীকে বিদেশ যেতে হলে অফিসের অনুমতি সাপেক্ষে যেতে হয়। কিন্তু সে সমস্ত কিছুই লাগে না মেহেদি হাসন বাবুর। কারন ক্ষোদ তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এই তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী খেসরা ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাবুর লোক। মেহেদি হাসান বছরের পর বছর অফিস না করে কিভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা: রওশনারা বেগমের ব্যবহৃত ০১৭১৬৫৩৮৩২৯ নং মোবাইল ফোনে ফোন করা হলে তিনি বলেন, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান দ্বারা বায়েষ্ট এবিষয়টিও তিনি শুনেছেন। অতএব তিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ব্যাতিরেকে অন্য কোন দপ্তরের কর্মকর্তা সমন্বয়ে তদন্ত টিম গঠন করবেন এবং মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে উত্থ্যাপিত অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, মেহেদী হাসান গত এক সপ্তাহ যাবত কর্মস্থলে উপস্থিত নেই এর সত্যতাও তিনি যাচাই করেছেন। তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনদ কুমার জানান, মেহেদী হাসান খুবি ক্ষমতাধর মানুষ।

বছরের পর বছর অফিস না করে সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিনুল ইসলাম। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এসব অনৈতিক ও সরকারী বিধি পরিপন্থি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য মীর জাকির হোসেন জানান, আমার নির্বাচনী এলাকার একটি ইউনিয়ন খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ। সেখানকার ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদি হাসান বাবু। তিনি খুবই ক্ষমতাবান। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তিনি অফিস করেন না। তার ভয়ে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।

তৃতীয় শ্রেনীর এই সরকারী কর্মচারী মেহেদি হাসান বাবুকে নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অনেক কাহিনী। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মেহেদি হাসান বাবু হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা হানিফ ফুডস্ এর ম্যানেজারের চাকরী নেন। সেখান থেকে মেহেদি হাসান ঢাকাতে অবস্থান করেন। হানিফ এন্টারপ্রাইজের এমডি (ম্যানেজিং ডাইরেক্টর) সিরাজুল ইসলাম রিকুর পিতা বিএনপি নেতা সাবেক সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কফিল উদ্দিন। যিনি বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আলহাজ্ব কফিল উদ্দিনের ভাই হানিফ যিনি বহুল আলোচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামী। হানিফ এন্টারপ্রাইজের পরিবারের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য নাশকতা মামলা। এছাড়া পরিবহন সেক্টরে মামলার কারনে তাদেরকে সার্বক্ষনিক পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। যে কারনে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে হানিফ ফুডস্ এর মিষ্টি মিঠাই এবং নগদ টাকাসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে লিয়াজো মেইন্টেন করতে হয় তাদের। মেহেদি হাসান হানিফ ফুডস্ চাকুরী পাওয়ার পর ঢাকার বিভিন্ন পুলিশ কমিশনার, থানার ওসি, সচিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বাড়ীতে হানিফ ফুডস্রে মিষ্টি মিঠইসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে পাঠাতো মেহেদিকে। এমনকি পুলিশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত ও বাড়ীতে তাদের যাতায়াতের জন্য হানিফ পরিবহনে ফ্রি ভিআইপি টিকিটও সরবরাহ করতো মেহেদী হাসান।

কোম্পানির নিকট থেকে এসব কাজ করতে খুব স্বাচ্ছন্দবোধ করে মেহেদি হাসান বাবু। আর এই সুযোগে সুচতুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদি হাসান বাবু মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজতে শুরু করে। নিজেকে সরকারি তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী পরিচয় গোপন করে পুলিশ প্রশাসনের সাথে গড়ে তোলেন সখ্যতা। মেহেদি হানিফ ফুডস্রে ম্যানেজার হলেও বাইরে পরিচয় দিয়ে থাকেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকু সাহেবের এ,পি,এস।

আবার কোথাও কোথাও অবস্থা বুঝে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা না হয় সরকারী দলের যুবলীগ নেতা অথবা ঢাকা ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র নেতা বলে নিজেকে জাহির করেন। ঈদ, পুজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আসলেই কোম্পানীর খরচে পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন কর্মকর্তাদের অফিস অথবা বাসা বাড়ীতে পাঞ্জাবী, পুলিশ কর্মকর্তাদের বউয়ের জন্য শাড়ীসহ বিভিন্ন গিফ্ট আইটেম ও নগদ টাকা পৌছে দেন মেহেদি হাসান বাবু। এসব বিষয়ের কোন লিখিত তথ্য প্রমানাদি না থাকলে সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত এসব তথ্যগুলি।

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা জনিত কারনে হানিফ গ্রুপের এই দূর্বলতার সুযোগে মেহেদি নিজেও বিভিন্ন সময় বাগিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। হানিফ ফুডসের ম্যানেজার হয়েও গোটা হানিফ পরিবহন সেক্টর এখন মেহেদি হাসান বাবুর কাছে জিম্মি। হানিফ পরিবহনে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন যুবক ছেলেদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও চাকরীচ্যুতের ভয়ে তারা মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।

আর এই হানিফ কোম্পানীর কল্যাণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠায় পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আছে মেহেদি হাসান বাবুর বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় জাহির করে থাকেন মেহেদী হাসান। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাইফুজ্জামান শিখর এর সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে নিজেকে তার নিকটজন বলে প্রচার করে থাকেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার পরিজনদের সাথে দম্ভক্তি করে বলেন হানিফ পরিবার এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজকে বাঁচিয়ে রেখেছি আমি (মেহেদি হাসান)। সুত্রও একই তথ্য শিকার করে জানান, হানিফ পরিবহন এবং হানিফ পরিবারও নাকি তার হাতে জিম্মি। তিনি যে কোন সময় হানিফ পরিবহনের গনেশ উল্টে দিতে পারেন বলে মেহেদী দম্ভ প্রকাশ করে থাকেন। মেহেদী হাসান সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তার বন্ধু মহলের কাছে প্রকাশ করেছেন ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ বিভিন্ন নাশকতার মামলায় হানিফ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকু ও তার বাবা আলহাজ্ব কফিল উদ্দিন তথা হানিফ পরিবারকে জেল হাজতে থাকতে হতো।

কেননা ওই সব হামলা-মামলা থেকে হানিফ পরিবারকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাথে তিনিই লিয়াজো করেছেন বলে মেহেদী হাসান তার নিকট বন্ধুদের কাছে স্বিকার করেছেন। এ বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলায় ওপেন সিক্রেট।

অথচ পুলিশ প্রশাসনসহ এই হানিফ কোম্পানীর কেউ জানেন না তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। নিজের সরকারি চাকুরীর কথা গোপন করে হানিফ এন্টারপ্রাইজে একটি প্রতিষ্ঠান হানিফ ফুডস্রে ম্যানেজার হিসাবে চাকরী করছেন। আবার নিজের কর্মস্থলে না থেকে সরকারী অফিস ফাঁকি দিয়ে বছরে পর বছর ঢাকাতে অবস্থান করে সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। একই সাথে দুটি চাকরি টিকিয়ে রেখেছেন মেহেদি হাসান। নিজের ফেসবুকের প্রোফাইলে তিনি হানিফ এন্টারপ্রাইজে চাকুরী করেন বলে লিখেছেন। যেটি এই প্রতিবেদকের নিকট স্কিন সট দিয়ে সংরক্ষিত করা হয়েছে।

নিজের ক্ষমতা জাহির করতে প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাইফুজ্জামান শিখর, এমপি, পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, চিত্রনায়িকা মৌসুমীসহ বিভিন্ন আমলাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেসবুকে ভাইরাল করে থাকেন দূর্নীতিবাজ মেহেদি হাসান। রাজধানী ঢাকার শ্যামলী কলেজ গেইট ২২/২ বাবর রোড, ব্লক-বি এর কসমোপলিটন সেন্টারের তৃতীয় তলায় হানিফ এন্টারপ্রাইজের প্রধান কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মেহেদী হাসান হানিফ পরিবহনের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকুর বর্তমানে একান্ত সহকারী।

এ পদে দায়িত্ব পালনের স্বিকারোক্তি দিয়েছেন হানিফ পরিবহনের এইচ আর ডিভিশনের কর্মকর্তা আবু সাইদ। তিনি তার ব্যবহৃত ০১৭১৩২০১৭২৫ নং মোবাইল ফোন থেকে এই প্রতিবেদককে বলেন, মেহেদী হাসান এমডি সাহেবের একান্ত সহকারী। তার বেতন ভাতা সরাসরি এমডি সাহেব প্রদান করে থাকেন। তার বেতন-ভাতা এবং পদমর্যদার বিষয়টি অন্য কারো জানার কথা নয় মেহেদী হাসান ১৫ বছরের অধিকাল ধরে হানিফ পরিবহনে চাকরী করে আসছেন বলে নিশ্চিত করেছে পরিবহনের এইচ আর ডিভিশন। তারা আরও জানান মেহেদি হাসান এর আগে হানিফ ফুডসের ম্যানেজারও ছিলেন।

হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক জামান ০১৭১৩০৪৯৫১৯ নং মোবাইল ফোন থেকে বলেন, মেহেদী হাসান এমডি সাহেবের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিবহন এবং ফুডস গ্রপেও দায়িত্ব পালন সকরেন এবং তিনি নিয়মিত ঢাকায় অফিস করেন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হয়ে অফিস ফাঁকি দিতে সহায়তা করছেন। নিজ কর্মস্থলে একান্ত সহকারী পদে চাকরী দিয়ে মেহেদী হাসানের মাধ্যমে নানা ফায়দা হাসিল করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে এবং মেহেদী হাসানও এসব বিষয় বিভিন্ন সময় সাধারণের কাছে প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে জানতে হানিফ পরিবহনের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকুর ব্যবহৃত ০১৭১৩০৪৯৫০০ নং মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের এমডি সিরাজুল ইসলাম রিকুর পিতা সাবেক সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিএনপি নেতা আলহাজ্ব কফিল উদ্দিন এর ব্যবহৃত ০১৭১৩০৪৯৫৮১ নং মোবাইল ফোনে মেহেদী হাসান তার দপ্তরে কর্মরত কিনা তা জানতে চাইলে কফিল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদি তার কোন দপ্তরে চাকরী করে কিনা তা তার জানা নেই। তবে মেহেদী তার ছেলে রিকুর সাথে সব সময় থাকেন বলে জানান।

কোন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশ ভ্রমন করতে চাইলে তাকে দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশে যেতে হয়। কিন্তু মেহেদী হাসান বিদেশে যান নিজের ইচ্ছায় যখন খুশি তখন। স্থানীয় একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে পাটকেলঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে মেহেদী হাসান ৩ কাঠা জমি ক্রয় করে তার উপর একটি আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন।

বাড়ি নির্মান করতে মেহেদী হাসান কোটি টাকা ব্যয় করছেন বলে জানা গেছে। অথচ তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন এমন কোন তথ্য জানাযায়নি। একজন ৩য় শ্রেনীর সরকারী কর্মচারী এত স্বল্প সময়ে এমন একটি বাড়ি নির্মাণ করেন কিভাবে তা খতিয়ে দেখা উচিত।