সর্বশেষ সংবাদ

ঘুরে এলাম বান্দরবন,নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, হিমছড়ি,ইনানী সী বিচ, কক্সবাজার ও ছেঁড়াদ্বীপ থেকে

সনিয়া আক্তার নিয়াঃ ঘুরতে কার না ভালো লাগে। মানুষিক প্রশান্তি আর হৃদয়জুড়ে ভালোলাগা সৃষ্টি করতে বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কার্যকরী ঔষুধ হিসাবে কাজ করে।আমি অবশ্য খুব একটা ঘুরাঘুরি করি না,তবে সুযোগ পেলে যে তা খুব সহজেই হাতছাড়া করি তাও না।অনেক দিনের পরিকল্পনা ডিপার্টমেন্ট থেকে কোথাও ঘুরতে যাব।এই তো সেদিন আমাদের সেই কাঙ্খিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হল।পরিকল্পনা ছিল অনার্সের শেষ সেমিস্টারে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে সকল বন্ধুবান্ধব একসঙ্গে নীলগিরি, নীলাচল,বান্দরবন , কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন ও ছেড়াদ্বীপে ঘুরতে যাবো। এক মাস আগেই ভ্রমণের দিন তারিখ নির্ধারণ করি।

সিদ্ধান্ত হয় ৯ ডিসেম্বর রাতে আমাদের যাত্রা শুরু হবে। ৯ ডিসেম্বর আগের পাঁচ ছয় দিন যে কিভাবে কাটিয়েছি তা লিখে বা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।বারবার ভাবতাম কবে আসবে সেই কাঙ্খিত ডিসেম্বর । অপেক্ষার প্রহর যে দ্রুত শেষ হয় না,সেই পাঁচ ছয়দিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম। বাবা মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিতে ভ্রমণের দুইদিন আগে বাড়ীতে গিয়েছিলাম। বাসায় গিয়ে দৈত্ব অনুভুতি অনুভব করলাম।লক্ষ্য করলাম,বাবা মা তাদের নাড়ী ছেঁড়াধনকে ছাড়তেই চাইছে না,অপর দিকে ভ্রমণে যাওয়ার কথা শুনে আমার আদরের ছোট ভাইয়ের যেন আনন্দের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণ, মনে হচ্ছিল আমার অনুভুতিগুলো সংক্রমনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে তার অবুঝ হৃদয়ে।৯ ডিসেম্বর সকালে ছোট ভাই কক্সবাজার থেকে তার জন্য কি কি আনতে হবে তার একটা তালিকা আমার হাতে ধরিয়ে দেন,ততক্ষণে বুঝতে পারি আমি ঘুরতে যাওয়াতে সে কেন এতো খুশি। ঐদিন দুপুরের মধ্যেই ক্যাম্পাসে চলে আসি।

রাত ৯ টা।আমরা সবাই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করি।আনুমানিক রাত ৯:৩০ ঘটিকায় আমরা প্রিয় ক্যাম্পাস থেকে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করি। পরেরদিন আনুমানিক সকাল ৬ টায় বান্দরবনে পৌঁছাই। তারপর হোটেলের নির্ধারিত কক্ষে কিছুক্ষণ আরাম করে অল্পকিছু সাজুগুজু করে চাঁন্দের গাড়ীতে করে নীলগিরির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। যাত্রা পথের সচিত্র অবস্থা লাইভ ভিডিও করে সবাইকে জানিয়ে দিই। যাত্রা পথ ছিল খুবই ভয়ংকর ও অনিন্দ্য সুন্দর।

পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা উচু নিচু পাহাড়ী পথে আমার গাড়ী চলতে থাকে। গাড়ী যখন ঢালু রাস্তা দিয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে তখন কি যে ভয়! আবার নিচ থেকে যখন উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন কি যে আনন্দ! তখন খুব করে মনে হচ্ছিল পাখির মতো ডানা মেলে আমরা যেন আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ছি। ভয় আর অভূতপূর্ব আনন্দ মনে আন্দোলিত হতে থাকে। এক সময় আমাদের গাড়ী আর্মি ক্যাম্পের সামনে হাজির হয়। সেখানকার এক সুদর্শন আর্মি ছেলেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। তাঁর সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছা হয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। আমরা সেখানে নিজেদেরকে ক্যামেরাবন্দী করি।

তারপর নীলগিরিতে যাই। সেখানকার পাহাড়ী পেপে ও কলা আমাদের মন কাড়ে। ইচ্ছামত কলা খেয়ে নিই। এক কথা বললে অনেক মজা হয়েছিল নীলগিরিতে। তারপর সেখান থেকে আমরা চিম্বুক পাহাড়ে যাই। সেখানে প্রকৃতির সাথে নিজেদেরকে ক্যামেরাবন্দী করি। সেখান সরাসরি হোটেলে ফিরে যাই।চলমান………

শিক্ষার্থী : ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

error: লাল সবুজের কথা !!