সর্বশেষ সংবাদ

ঘিওরে নিখোঁজ আদিয়ার লাশ উদ্ধার

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম খান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জেলার ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া আদিয়া ইসলামের লাশ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার ২দিন পর ঘিওর সরকারী কলেজের পশ্চাৎ দিক দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদী হতে সোমবার ভোরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লাশটি উদ্ধার করে।

গত ৮ জুন-শনিবার দুপুরে কুস্তা গ্রামের নানাবাড়ী হতে মা-বাবা ও ছোট বোনের সাথে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে আসে ১০ বছরের শিশু আদিয়া ইসলাম। গোসলের এক পর্যায়ে আদিয়া ইসলাম পানিতে ডুবে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখোঁজি করে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, আদিয়া ইসলাম রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকার ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামের কন্যা। সে মিরপুর গার্লস স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো। ঈদের ছুটিতে বাবা-মার সাথে এসেছিল ঘিওর উপজেলার কুস্তা গ্রামে নানাবাড়ী ঈদ করতে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে নানাবাড়ীর এ আনন্দঘন ঈদ তার কপালে সইলোনা।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে ঘিওর উপজেলার কুস্তা গ্রামে শ্বশুরালয়ে বেড়াতে আসেন। ৮জুন-শনিবার দুপুরে দুই কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শ্বশুরালয়ের অদূরে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে যান। গোসলের সময় আমিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখানোর কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। আর বড় মেয়ে আদিয়া ইসলাম তাদের কোমর ও কাপড় ধরে জলখেলা করতে থাকে।

এরই মাঝে কোন ফাঁকে যে বড় মেয়ে আদিয়া ইসলাম তাদের থেকে আলাদা হয়ে গভীর পানিতে ডুবে গেছে তা কেউ খেয়াল ই করেননি। যখন খেয়াল হলো, দেখেন আদিয়া ইসলাম নেই। কখন কোমড় ছেড়ে গভীর পানিতে তলিয়ে গেছে তা টের পাননি তারা। এর পর খোঁজাখোঁজির পালা। খোঁজে না পেয়ে মা-বাবা আর্তনাদ ও আহাজারি করতে থাকেন। তাদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে জড়ো হয় এবং আদিয়া ইসলামকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নদীতে স্রোত থাকায় তারাও ব্যর্থ হন।

অবশেষে ১০জুন-সোমবার ভোর বেলায় হারানোর প্রায় ২দিন পর দেড় কিলোমিটার ভাটিতে ঘিওর সরকারী কলেজের পেছন দিকের ধলেশ্বরী নদীতে আদিয়া ইসলামের লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে এ লাশ উদ্ধার করেন।

ঘিওর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুল হক জানান, আদিয়া ইসলামের পিতা-মাতার ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ বিনা ময়না তদন্তে দাফন-কাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

error: লাল সবুজের কথা !!