গাজীপুরে মদের খনি আবিষ্কার!

44
গাজীপুরে মদের খনি আবিষ্কার!

মদের খনি (!) আবিষ্কার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পূবাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার যুবকদের সহযোগিতায় সেই খনি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বালু নদীর দুই থানার সীমান্তবর্তী নির্জন স্থানে নৌকার বহরে প্রায় ২৫ বছর ধরে মদ উৎপাদিত হতো। এই ‘নৌ মদ কারখানা’র উৎপাদন ক্ষমতা ছিল দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার লিটার।

শনিবার পূবাইল থানা পুলিশ ভাসমান এই মদ কারখানার ৫টি নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে মদ তৈরির যাবতীয় উপকরণ। ঢাকা ও গাজীপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌ ও স্থল পথে মদ সরবরাহ হতো অবৈধ এই কারখানা থেকে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে পূবাইল ও কালীগঞ্জ থানার সীমানার মধ্যবর্তী উজিরপুরা গ্রাম সংলগ্ন বালু নদীতে দেশীয় চোলাই মদ তৈরি হয়ে আসছিল। নৌকায় চুলা ও বড় বড় পাতিল বসিয়ে জ্বাল দিয়ে চোলাই মদ তৈরি হতো। চোলাই মদ ব্যবসায়ীরা এত দিন বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গ্রেফতার হলেও মূল উৎসটি কেউ বন্ধ করতে পারেনি।

শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূবাইল থানার ওসি মো. নাজমূল হক ভূইয়া স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমেন মিয়া ও এলাকাবাসীকে নিয়ে নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মদ উৎপাদনকারীরা পানিতে উপকরণ ফেলে নৌকা রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় পুলিশ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে মদের উপকরণ ভর্তি ৮০টি মোটকি, ৩০ বস্তা পচা গুড় বালু নদী থেকে উত্তোলন করে ধ্বংস করে দেয়। এসময় ভাসমান মদ কারখানার ৫টি নৌকা পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমূল হক ভূইয়া চোলাই মদের অন্যতম উৎসটি বন্ধ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দেয়ার জন্য চোলাই মদ প্রস্তুতকারকরা বালু নদীর দুই থানার সীমান্তবর্তী ওই নির্জন স্থানটিকে নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছিল।

সেখানে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরি হতো। ইতিপূর্বে আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মদসহ এই কারবারিরা গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো তারা মদের কারবারে জড়িয়ে পড়ে। এতো দিন মদের মূল উৎসের সন্ধান না পাওয়ায় চোলাই মদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পুনরায় যাতে মদের উৎপাদন চালু করতে না পারে সেজন্য নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে।