গলাচিপায় আট দিন ধরে নিখোঁজ শিশু শ্রমিক সায়েম

মোহাম্মদ মুনতাসীর মামুন, গলাচিপা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ইউনিয়নের অটোরিকশা চালক শ্রমজীবী শিশু সায়েম গত সাতদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে সায়েমের খোঁজ না পেয়ে বাবা আবুল কালাম ও মা সাহেদা বেগম শিশু পুত্রকে ফিরে পেতে দারে দারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। তবে গলাচিপা থানা সূত্র জানায়, সায়েমকে খুঁজে পেতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।নিখোঁজ সায়েমের মা সাহেদা বেগম জানান, সায়েম গলাচিপার চরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে লেখা পাড়ার পাশাপাশি সায়েম অটোরিকশা চালায়। সায়েমের বাবা কালাম দীর্ঘদিন লিভারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় অচল হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরতে তাদের বড় ছেলে সাইফুল অন্যের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। আর সায়েম অটোরিকশা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করছে। কিন্তু গত ২৬ নভেম্বর আসরের আজানের সময় সায়েম বাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার রিকশা নিয়ে গলাচিপা পৌর এলাকায় যায়। সায়েম বাড়ি না ফেরায় তার বাবা রাত আটটার দিকে ছেলের খোঁজ নিতে গিয়ে আর সন্ধান পায়নি।

রাত আড়াইটার দিকেও বাড়ি না ফিরলে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। এর পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হলেও আজ সাতদিন ধরে সায়েমকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পর লোকমারফত খবর পায়, সায়েম যে রিকশা চালাচ্ছিল সেই রিকশা গলাচিপা পৌর এলাকার পানির ট্যাঙ্কির রোড এলাকায় পাওয়া গেছে কিন্তু সায়েমের খবর নেই।

সায়েম সম্পর্কে তার বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ছেলে বেশি রাইত কইররা রিকশা চালাইত না। কিন্তু ওই রাইতে বাড়ি ফিরতে দেরি করলে আমরা খবর নিতে গলাচিপা সিনেমা হল রোডে খোঁজ নেই। ওই রাইতেই আমরা আত্মীয় স্বজন ও সায়েমের বন্ধুদের কাছে খবর নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আইজ পর্যন্ত কোনো খবর নাই। পুতে আমার কই আছে, কি খায় আল্লায় জানে।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘সায়েম নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ নভেম্বর গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। সায়েমকে পেলে আশা করি রহস্য উন্মোচন হবে। ’

error: লাল সবুজের কথা !!