গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাস্থ্য ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন : জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি

98
জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি

করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত অবাধ তথ্য প্রবাহ উল্লেখ করে এই দুর্যোগে তথ্য প্রকাশ ও প্রচারে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষায় বিশেষ করে নিয়মিত বেতনভাতার পাশাপাশি আপদকালীন প্রণোদনা নিশ্চিত করতে এক যুক্তবিবৃতিতে মালিকপক্ষ ও সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান লায়ন এড. এম এ মজিদ ও মহাসচিব নাসির উদ্দিন বুলবুল।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার এই মহামারী মোকাবেলায় সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত অবাধ তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ ও প্রচার – যা সর্বজনবিদিত। এই সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলায় তথ্য গোপন নয়, তথ্য প্রচারে প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আরো বেশি অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা, পেশাগত সুরক্ষা ও বিশেষ করে নিয়মিত বেতনভাতার পাশাপাশি আপদকালীন প্রণোদনা নিশ্চিত করার জন্য মালিকপক্ষ ও সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই নিরলস কাজ করছেন সংবাদকর্মীরা। বিশেষ করে ফ্রন্টলাইন সাংবাদিকদের অনেককেই ন্যূনতম সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের নিজেদের ও সামাজিক সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সংবাদক্ষেত্র ও সংবাদকক্ষের চরিত্র বিবেচনায় একজন আক্রান্ত হলে তা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও আছে। ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মীর তালিকা (১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপডেট: মোট আক্রান্ত: ১৫ জন) সংবাদকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং ঐ চ্যানেলের আরো প্রায় শতাধিককর্মী হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এ অবস্থায় অবিলম্বে গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এখন সর্বস্তরের জনগণ সময় কাটাচ্ছেন প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া পড়ে ও দেখে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ২৪ ঘন্টা বিরামহীনভাবে সংবাদকর্মীরা এই কাজগুলো করে যাচ্ছেন। অথচ এত ত্যাগের বিনিময়ে সংবাদকর্মীরা কি পাচ্ছেন?

গণমাধ্যমকর্মীদের পুঞ্জীভূত বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা তাদের মাসিক বেতনের বাইরে প্রভিডেন্ড ফান্ড, গ্র্যাচুইটি বা স্বাস্থ্য বীমার মতো সুবিধা পান না। নিয়মিত বেতন ভাতাও পান না অনেক গণমাধ্যমকর্মী এবং মালিকপক্ষের অনেকেই বেশ সুকৌশলে দীর্ঘদিন সংবাদকর্মীদের বঞ্চিত করে আসছেন। করোনা সংক্রমণের বেশ আগে থেকেই খরচ কমানোর অজুহাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম সাংবাদিক ছাঁটাইও করেছেন। এই বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন যে এখনও হয়নি তার প্রমাণ এই দুর্যোগকালেও একটি টেলিভিশন বেশ কিছু গণমাধ্যমকর্মী ছাঁটাই করেছে। কোনো কোনো চ্যানেলে এখনও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয় না।

অথচ এটি অজানা নয় যে, বেশিরভাগ গণমাধ্যমের বিনিয়োগে রয়েছে ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী। এই দুর্যোগ তাদের জন্য নিজেদেরকে সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা, পেশাগত সুরক্ষা ও নিয়মিত বেতনভাতার পাশাপাশি আপদকালীন প্রণোদনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে মালিকদের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মানবতার মাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই করোনা সংকটে জরুরিভাবে সাংবাদিকদের জন্য কিছু একটা করবেন। সাংবাদিকরা তাদের নিজেদের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে তাদের নিদারুন কষ্টের কথা না পারছেন বলতে না পারছেন সইতে।

সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সাংবাদকর্মীরাই তুলে ধরেন। যেহেতু সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সেহেতু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা বাঁচিয়ে রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা ও প্রনোদনার আশু ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।