গডফাদারদের মদদে ভূইফোড় সংগঠনের আড়ালে চলে জুয়া ও মাদক ব্যবসা

61
শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ
শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ

কলারোয়া প্রতিনিধি (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শ্মশান ঘাটে ক্ষমতাসীন আ’লীগ নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় লিখিত অনুমোদন বা সরকারি নিবন্ধনের তোয়াক্কা না করে রাতারাতি গড়ে উঠেছে কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয়। অনেকটা রূপকথার রূপক গল্প মনে হলেও মাঠ কিন্তু এর স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় অনুমোদন বা সরকারি নিবন্ধন বিহীন হওয়ার পরও নানা অপকর্ম মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, শুধুমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ছবি ও নাম ব্যবহার করার ফলে। অনুসন্ধানে নেমে অনুসন্ধানের পথ আমাদের নিয়ে গেছে নানা প্রকার চমৎকারের কাছে।

জানা গেছে,দলুইপুর গ্রামের গরীব ভ্যান চালক ন্যাদা সরদারের ছেলে তুহিন সরদার এই কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সদস্যদের রোষানলের শিকার হয়ে আজ কারাগারে।অসহায় ন্যাদা সরদার ও তার স্ত্রী মাদকের মিথ্যে অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সন্তানের জন্য আহাজারি করে আজ দিন কাটাচ্ছে।
১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মুনসুর সরদার বলেন,মাদক মামলায় গ্রেফতার ন্যাদা সরদারের ছেলে তুহিন সরদারের মাদকের সাথে কোন সম্পর্ক নেই ।

যার সঙ্গে মাদকের কোন সম্পর্ক নেই, সেই ব্যক্তিই কেন মাদক মামলার আসামী হয়ে আজ কারাগারে ?-এমন প্রশ্নকে সামনে রেখে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়,কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের জুয়া ও মাদক ব্যবসা দেখভাল করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার ছোট ভাই কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্য। এই কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্য সবসময় কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ নামক সংগঠন/ক্লাবের সামনে মামুনের চায়ের দোকানে কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার মাধ্যমে লোকজন দিয়ে কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের ভেতরের তাসের জুয়া খেলা ও আশপাশের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত আজিতের স্ত্রী চিহ্নিত একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। এই ইয়াবা ব্যবসায়ীর দুই ছেলে সুজন ও রানা কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ছোট ভাই কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্যের সাথে থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে। এই ইয়াবা ইয়াবা ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা ও সাধারন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সাধারন জনতার নামে কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্যের নেতৃত্বে কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সদস্যদের নিয়ে ন্যাদা সরদারের ছেলে তুহিন সরদারকে পাকড়াও করে পুলিশ খবর দিয়ে ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।যে মাদক মামলার ১নং স্বাক্ষী কথিত ঐ উপজেলা যুবলীগ সদস্য।
সূত্র বলছে,সাধারন জনতার নামে কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্যদের সাঙ্কপাঙ্গ দ্বরা ন্যাদা সরদারের ছেলে তুহিন সরদারকে ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে সোপর্দ করে পুলিশের নিকট এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে,কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার ছোট ভাই যে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে থাকে তারা ইয়াবা সহ যেকোনো মাদকের ব্যাপারে তৎপর ও সজাগ।
প্রকারান্তে,পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত আজিতের স্ত্রী চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীর দুই ছেলে সুজন ও রানাকে সাথে রেখে কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার ছোট ভাই কথিত উপজেলা যুবলীগ সদস্য।

সূত্র বলছে,পাকুড়িয়া শ্মশান ঘাট এলাকায় অবস্থিত কথিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা,যিনি নিজেই দাবী করেন ঐ ভূই ফোড় সংগঠনের অনুমোদনদাতা।
মোটা দাগে প্রশ্ন, সরকারি বা কোন সংগঠনের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজে ভূই ফোড় সংগঠনের অনুমোদন দিয়েছি দাবী করে কথিত সংগঠন/ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হওয়া কি বৈধ?
উপজেলা যুবলীগ সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানা অনিয়ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।এছাড়া স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার আপন ছোট ভাই পরিচয় দেয়ার কারণেও কথিত এই উপজেলা যুবলীগ সদস্য যে এই ভূই ফোড় সংগঠন/ক্লাব করে জুয়া,মাদক সহ নানা অপকর্ম করছে,তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।