কোটা আন্দোলনকারীদের ৫ দফা ইশতেহার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে ‘তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা’ নামে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। পরে ইশতেহার নিয়ে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এবং আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউল্লাহ বিএনপি কার্যালয়ে যান। এ ছাড়া গণফোরামকেও ইশতেহার দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

ইশতেহার ভাবনায় বেকারত্ব নিরসন, চাকরিতে নিয়োগ, শিক্ষা ও গবেষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক এবং যুব অ্যাসেমব্লি নামে আলাদা ও সুস্পষ্ট ধারণা উত্থাপন করা হয়। এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের ইশতেহারে তরুণ সমাজের দাবি-দাওয়া অন্তর্ভুক্ত করাসহ নির্বাচনে জয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করারও আহ্বান জানান তারা।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল- বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থান। এতে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষে উপার্জনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশাসনিক ভোগান্তি কমাতে ‘ওয়ান ডেস্ক সার্ভিস’ চালু, তরুণদের জন্য কর্মরত ১৬টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করা, বেকার তরুণদের সহজ শর্তে নূ্যনতম ৫ লাখ টাকার ঋণ প্রদান, ঘুষ-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশাসনের খালি পদগুলো দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা।

চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে দ্বিতীয় দফা। এতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার, চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থা, আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি করা, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ও লিখিত পরীক্ষার ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ নির্ধারণ করা, তথ্য যাচাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধকরণ, বেসরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে তৃতীয় দফায় বলা হয়, শিক্ষা খাতে বার্ষিক বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসবিরোধী সেল গঠন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কঠোর আইন করা এবং মেধাপাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

চতুর্থ দফায় বলা হয়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, আবাসন ব্যবস্থার কৃত্রিম সংকট দূর করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১০ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দ দেওয়া। পঞ্চম দফায় যুব অ্যাসেমব্লি আয়োজনের কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নুরুল হক নুর, ফারুক হাসান, বিন ইয়ামিন মোল্লা, জসিম, মশিউর রহমানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি সকাল ১১টায় মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও আগের দিন রাতে মোবাইলে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে জানায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। পরে মিলনায়তনের সামনেই ইশতেহার ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

error: লাল সবুজের কথা !!