সর্বশেষ সংবাদ

কেশবপুরে ১৪৪ টি গ্রামে শতভাগ বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছে মানুষ

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলায় ১৪৪ টি গ্রামের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘন্টা অবিরাম পরিশ্রম করছেন। কেশবপুর উপজেলার আয়তন ১৫৬ বর্গ কিলোমিটার। ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কেশবপুর উপজেলা।  উপজেলার লোকসংখ্যা সর্বশেষ আদমশুমারী অনুযায়ী ২ লক্ষ ৫৬ হাজার যা বর্তমান বেড়ে প্রায় ৩ লক্ষ দাড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে শতভাগ মানুষের মাঝে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া একটি অন্যতম অঙ্গীকার। ২০০৯ সালে কেশবপুর উপজেলায় বিদ্যুতের সরবরাহ ছিলো মাত্র ৪ মেগাওয়াট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে জীবনযাত্রা থমকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ব্যাহত হচ্ছিল উন্নয়ন কর্মকান্ড।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ২য় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎখাতকে খুব গুরুত্ব দেন। নতুন করে অভয়নগর থেকে কেশবপুরে ৪৪ কিলোমিটার বিদ্যুতের নতুন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। যার কারণে কেশবপুর উপজেলার ১৪৪ টি গ্রামের দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ লাইন পৌছিয়ে গেছে। কেশবপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কেশবপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট এবং চাহিদার অনূকুলে বিদ্যুতের সরবরাহ ১৩ মেগাওয়াট। যার ফলে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ ঘাটতির কোন কারণ নেই। বিদ্যুৎ লাইনের ওপর যদি কোন গাছ পড়ে বা জাম্পার আউট হয়ে যায় তাহলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যা দ্রুততর সময়ের মধ্যে সংস্কার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কেশবপুরে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে ১৩ শত কিলোমিটার। যার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭২ হাজারেরও বেশী। এরমধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৬০ হাজার ৪ শত ৪৯ ও বাণিজ্যিক গ্রাহক ৪ হাজার ৭ শত ১৪, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ১ শত ৫৭, ক্ষুদ্র শিল্পে বিদ্যুৎ লাইন ৪ শত ৭, সেচ বিদ্যুৎ লাইন ১ হাজার ৬ শত ২১ টি। ইতিমধ্যে কেশবপুরে লোডশেডিং বন্ধের জন্য ভালুকঘর ও পাঁজিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ২টি সাব স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে গত মে মাসে ভালুকঘরের সাব স্টেশনটি চালু করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলার ৭২ হাজার গ্রাহকদের মাঝে শতভাগ বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে কেশবপুর জোনাল অফিস প্রতিমাসে ১টি করে গণশুনানীর আয়োজন করেন। যারই অংশ হিসাবে গতকাল কেশবপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে কেশবপুর জোনাল অফিস আয়োজনে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর সভাপতি ও কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত গণশুনানীতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) অরুণ কুমার কুন্ডু। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, কেশবপুর জোনাল অফিসের ম্যানেজার আবু আনাছ মোহাম্মদ নাসের, এ জি এম (কম) আশরাফুল ইসলাম, কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান প্রমুখ। উক্ত শুনানী অনুষ্ঠানে উপজেলার শত শত বিদ্যুৎ গ্রাহক উপস্থিত হয়ে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাদের ব্যাক্তিগত সমস্যাগুলি তুলে ধরেন।

গণশুনানীর প্রধান অতিথি ধৈর্য সহকারে গ্রাহকের অভিযোগ শ্রবণ করেন এবং সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিকে জোনাল অফিসের ম্যানেজার আবু আনাছ মোহাম্মদ নাসের বলেন, কেশবপুরে বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যাপারে গ্রাহকদের বারংবার নির্দেশ দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত ২ কোটি ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৫ শত ৩৫ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। তিনি কেশবপুরে বিদ্যুৎ সেবার গতি বাড়াতে জনবল কাঠামো নিয়োগের জন্য গ্রাহকদের বকেয়া বিল পরিশোধের আহ্বান জানান।

error: লাল সবুজের কথা !!