কেশবপুরে সামছুদ্দীন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ হুমকির মূখে

32
লাল সবুজের কথা- Lal Sobujer Kotha

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুরে সামছুদ্দীন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষা বিস্তার গৌরবময় ভূমিকা ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

শিক্ষার আলো ছড়ানো এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এর ভবিষ্যৎ হুমকির মূখে পড়েছে। এ সংকট নিরসন না হলে এলাকার প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারের কাজটি মুখ থুবড়ে পড়বে। দীর্ঘ ৫ বছরেও সরাকারি কোন সাহায্য বা বেতন ভাতা না পেয়ে শিক্ষক-আয়া পরিবারগুলো বর্তমান মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, কেশবপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে কেশবপুর-কলারোয়া সড়কের নিমতলা মোড়স্থ সাতবাড়িয়া গ্রামে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদার এলাকাবাসির সহযোগীতায় এলাকার জবেদ আলী দফাদার, লুৎফার রহমান দফাদার, আব্দুল হান্নান দফাদার ও কওছার আলী দফাদারের দান করা ২০ শতক জমির ওপর ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সামছুদ্দীন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এলাকবাসির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় টিনের ছাউনি ৬ রুমের পাকা ঘর নির্মান করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৬ জন শিক্ষক, ৭ জন আয়া ও ১ জন নৌশ প্রহরী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ ৫ বছরেও সরাকারি কোন সাহায্য বা বেতন ভাতা না পেয়ে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-আয়ারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বর্তমান প্রতিষ্ঠনটি ধরে রাখার সার্থে ও ভবিষ্যতে সরকারি বেতন হবে এমন আশায় শিক্ষক-আয়ারা স্বেচ্ছাশ্রমে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয় শুরু থেকে শেষ পর্যান্দ একটানা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্যে কাজ করতে হয়। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-আয়ারা সরকারি বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, বর্তমান এ প্রতিষ্ঠানে ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত। বর্তমান এ প্রতিষ্ঠাটিতে বিদ্যুৎ ও গভীর নলকুপ নাই। শিক্ষার্থী বাহী যান রয়েছে মাত্র একটি। মৌচাক সমাজ কল্যান সংস্থার আর্থিক সহযোগীতায় এ প্রতিষ্ঠানটি চললেও এক্ষনে শিক্ষক-আয়াদের বেতন ভাতার ব্যবস্থ না হলে সামছুদ্দীন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদার শিক্ষক-আয়াদের কষ্টের কথা স্বীকার করে বলেন, গত ২০১৮ সালের ২ ফেব্রæয়ারী যশোর জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন এ প্রতিষ্ঠানটি প্ররিদর্শন করলেও কোন ফল হয়নি।