আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
ভোরে কুয়াশায় বিন্দু বিন্দু শিশির কণা ঘাস, লতা, পাতাকে সিক্ত করে সাদা করে তুলেছে। আর শীতের এমন আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোশকের কারিগররা। আবার স্বাভাবিক ভাবেই অনেক পরিবার শীত নিবারনে এখনই বের করে ফেলেছেন গত বছরে তুলে রাখা গরম কাপড়। বিকাল হলেই শৈত হাওয়া আর সন্ধ্যার পরপরই কুয়াশা ঝরতে শুরু করেছে। মধ্যরাতে টিনের চালের উপরে টিপটাপ শব্দ যেন জানান দিচ্ছে। শীতের আগমন রাত ১০ টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
কেশবপুরে শীত মৌসুম আসলেই লেপ-তোশকের দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেছে ক্রেতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লেপ-তোশক কেনা-কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন ক্রেতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুই, সুতা, হাতে নিয়ে লেপ আর তোশক সেলাই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগররা। শীতের বার্তা বইছে, রাতে পড়ছে শিশির বিন্দু। আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে আকাশ। সুই, সুতা হাতে লেপ তোশকের কারিগররা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ-তোশক তৈরি করার কাজে। অন্যান্য সময় কারিগররা অলস সময় পার করলেও এখন যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। শীতের এই ৪/৫ মাস চলবে লেপ-তোশক তৈরির কাজ। কারিগররা জানান,একটি লেপ তৈরিতে ২ জন কারিগরের সময় লাগে ৩/৪ ঘন্টা। এইভাবে ১ জন কারিগর দিনে গড়ে ২/৩ টি লেপ তৈরি করতে পারেন। লেপ-তোশক তৈরি করতে তুলাসহ যেসব মালের প্রয়োজন হয় তার দাম এবছর সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান কারিগররা। ব্যবসায়ীরাও এখন লেপ-তোষক ও বালিশ নিয়ে প্রতিদিন গ্রামাঞ্চলে বিক্রয় করছেন। কেশবপুর শহরের লেপ-তোশক দোকানের মালিক ইফনুস আলী সরদার, মহসিন আলী, সাগর, আলমগীরসহ অনেকেই জানান শীতের শুরুতে আমাদের বেচাকেনা বেশী হয়ে থাকে । প্রতিটি দোকানে উপচেপড়া ভিড় জমতে থাকে। লেপ-তোশকের কারিগরদের শ্রম হিসাবে মাথাপ্রতি ৩/৪ শত টাকা মজুরি দেওয়া হয়। তারা প্রতিদিন ২/৩ টা লেপ ও তোশক সেলাই করে থাকেন। আবার শীত মৌসুম চলে গেলে বেচাকেনা ঝিমিয়ে পড়ে।


