সর্বশেষ সংবাদ

কেশবপুরে রাতের আধারে এক মাদ্রাসার সাইন বোর্ড পরিবর্তন

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরে রাতের আধারে সাইন বোর্ড পরিবর্তন করে এক অস্তিত্বহীন মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নামে সভাপতি বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যে দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে নিয়োগ স্থগিতের দাবিতে মাদ্রাসার দাতা সদস্য নওশের আলী বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করলে তিনি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে ৩৬ শতক জমির ওপর সাতবাড়িয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়। দীর্ঘ দিনেও মাদ্রাসাটি এমপিওভূক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে শিক্ষকরা চলে যাওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি কাগজে কলমে চলতে থাকে। ১৯৮৮ সালের ভূমি জরিপের সময় এবতেদায়ী মাদ্রাসার কোন অস্তিত্ব না থাকায় ওই জমি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে হাল রেকর্ড হয়। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সরকার এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভূক্তির আশ্বাস দেয়। এ সময় এলাকার একটি কুচক্রিমহল অর্থ বাণিজ্যের লক্ষ্যে ওই প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের পাইতারা চালাতে থাকে। ফলে মহলটি গোপণে কমিটি গঠন করাসহ রাতের আধারে মাদ্রাসার সাইন বোর্ড পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটির নাম দেয় সাতবাড়িয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা। কিন্ত সরকারের দপ্তরে এ প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই। এরপরও মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেন যোগসাজসে গত ১০ জুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মোটা অংকের টাকা অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়। এ ঘটনা এলাকায় রটে গেলে গত ৪ আগস্ট শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করার দাবিতে মাদ্রাসার দাতা সদস্য নওশের আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৮ আগস্ট নিয়োগ বোর্ড করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে ধরনা দিলেও তা শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, শুনেছি মাদ্রাসা এমপিও হবে। এ কারণে সভাপতি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা দাবি করে। সর্বশেষ হাজরাকাটি গ্রামের সিরাজুলের সাথে ৭ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে এক লাখ টাকা সুপার ব্রিকক্সের মালিক ফারুক হোসেনের কাছে জমা দেয়। তবে ফারুক হোসেন বলেন, আমার কাছে টাকা জমা দেয়ার ২ দিন পর তাদের টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মহিলা ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম জানান, প্রতিষ্ঠানটি টিকে রাখার স্বার্থে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে চেয়েছিলাম। ১৮ আগস্ট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে এ ব্যাপারে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানসম্মত কাগজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ার কারণে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাতে হবে। তবে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে অর্থ বাণিজ্যের কথা শুনেছেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের কোন প্রশ্নই আসে না। আগে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব আছে কিনা তা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত: এ ধরনের চিন্তা নেই।

error: লাল সবুজের কথা !!