কেশবপুরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টটিভদের প্রেসক্রিপশন সার্ভে

আজিজুর রহমান,কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অমান্য করে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা রোগীর প্রেসক্রিপশন সার্ভে করায় রোগীদের ভিতর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতর এবং ক্লিনিকের বাইরে এ প্রতিযোগিতা চলছে ।

ডাক্তারের দেয়া ওই সব প্রেসক্রিপশনে নিজেদের কোম্পনীর ওষুধ আছে কিনা তা দেখতেই এ ধরনের কাজ তারা করে চলেছেন। রোগীর কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে পড়া ও মোবাইলে ছবি তুলে রাখার প্রতিযোগিতায় রোগীরা পড়ছেন অস্বস্থিতে। মেডিকেল নীতি শাস্ত্র বহির্ভূত এমন কাজ বন্ধ করার জন্য যশোরের সিভিল সার্জন বিজ্ঞপ্তী জারী করলেও কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তা মানছেন না।সরকারি হাসপাতালের ভেতর ও শহরের বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বাইরে ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা দলবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। রোগীরা ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হবার সাথে সাথে রোগীর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে পড়াসহ মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছেন। একজন দু’জন নয় ডজন ডজন প্রতিনিধি ওই কাজে ব্যস্ত থাকেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাক্তার রোগীর প্রেসক্রিপশনে কি ধরণের রোগের বা কোন কোম্পানীর ঔষুধ লিখেছেন প্রতিনিধিরা কোম্পানীকে জানানোর জন্যই ছবি তুলে নিচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কয়ার, বেক্সিমকো, রেনেটা, অপসোনিন, ড্রাগ, এসিআই, এ্যারিস্টোফার্মা, অরিয়ন, এসকেপ ও একমিসহ বিভিন্ন কোম্পানীর ১০ জন প্রতিনিধি কেশবপুর হাসপাতালের ভেতর রোগীদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছেন। এ উপজেলায় প্রায় ২৬০ টি ঔষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। যে কারণে প্রায় ৮২টি ঔষুধ কোম্পানী এখানে তাদের প্রতিনিধি দ্বারা ঔষুধ বিক্রি করে থাকে। প্রতিদিন এই উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঔষুধ বিক্রি করে থাকেন এ সব প্রতিনিধিরা। কেশবপুরস্থ কেমিষ্টস এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত জিয়া ফার্মেসীর মালিক কবিরাজ জিয়াউর রহমান উচ্চ স্বরে চিৎকার করে ভূত-প্রেত ধরেছেন এমন অবিশাস্য বুলি আউড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়-ফুকের নামে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। এ ঘটনায় কেশবপুরের সাবেক ইউএনও শরীফ রায়হান কবীর তাকে জেল জরিমানা করলেও থেমে নেই তাঁর প্রতারণার ব্যবসা। ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা ওই কবিরাজকে দিয়েও তাদের কোম্পানীর ঔষুধ প্রেসক্রিপশন করিয়ে থাকেন।

কবিরাজ জিয়াউর রহমান জানান, তিনি ঝাড়-ফুক দিয়ে রোগীদের নিকট থেকে ৫০ টাকা ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন। কেশবপুরস্থ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মোবাইলে ডাক্তারের দেয়া রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নেয়ায় রোগীর রোগের গোপণীয়তা রক্ষা হচ্ছে না। অফিস সময়ে ডাক্তার ভিজিট ও প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতনমহল।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার হারুনার রশীদ সাংবাদিকদের জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা রয়েছে কোন প্রেসক্রিপশনের ছবি উঠানো যাবে না। ওষুধ কোম্পনীর প্রতিনিধিদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। যদি কোন প্রতিনিধি এ ধরনের কাজ করেন তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: লাল সবুজের কথা !!