আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুরে গত ২১ দিনে অর্ধশত ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও বাড়ছে না মাস্কের ব্যবহার। শুক্রবার করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
ইতোমধ্যে এক সপ্তাহের ভিতর করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহরের এক মুদি ব্যবসায়ী আলী, কন্দপপুর গ্রামের ফজিলা বেগম মৃত্যুবরণ করেছেন।
কেশবপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলায় মোট কোভিড- ১৯ আক্রান্ত ৩০৬ জন, সুস্থ ২৪৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন। গত ২১ দিনে করোনা পজিটিভ ৫৭ জন।
এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২১ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। ৩৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অধিকাংশ মানুষ। যত অনীহা মাস্ক ব্যবহারে। নিয়ম না মেনে জনসমাগম করায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা অব্যাহত রেখেছে।জানা গেছে, ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি; নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত জোরালোভাবে কার্যকর করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে অনীহা রয়েছে। বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, নেই মাস্কের ব্যবহার, তেমনি বালাই নেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার।
করোনা সংক্রমণরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও উপজেলাজুড়ে দিন দিন মাস্ক ব্যবহারে অনীহা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।শহরের ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী কার্ত্তিক চন্দর রায় বলেন, করোনারোধে প্রত্যেকের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম। প্রশাসনের লোক দেখলে মাস্ক মুখে দিচ্ছে, আবার কিছুদূর গেলেই তা খুলে ফেলা হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে, মানুষের আগ্রহ কমে আসছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, শুক্রবার কেশবপুরে করোনায় ৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ফজিলা বেগম নামে এক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমএম আরাফাত হোসেন জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করার পাশাপাশি তাদের খাদ্যের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য জনবহুল স্থান, বিভিন্ন মোড় ও দোকানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। যারা মাস্কবিহীন চলাচল করছে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে।


