কেশবপুরে ভালুকঘর আজিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু

80

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে ভালুকঘর আজিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অবশেষে ক্লাস করতে শুরু করেছে। সোমবার দুপুরে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাচ্ছেন।

এদিকে রবিবার বিকালে গভীর ষড়যন্ত্রকারী মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসা ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই উপজেলা প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন।

উল্লেখ্য ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাইয়ের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আরবী প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগকে মাদ্রাসার পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মুখে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনার পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও ইউএনও অফিস ঘেরাও করে শিক্ষকের ওপর হামলার বিচার ও সন্ত্রাসী মাহফুজের গ্রেফতারের দাবি জানায়।

ঘটনার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা মাদ্রাসার ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। সোমবার কেশবপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দৌলত বিশ্বাস চত্বরে ওই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধন করেন। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই বলেন, মাদ্রাসা ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে জামায়াত, বিএনপি সমর্থিতরা অরাজকতা সৃষ্টি করে মিটিং, মিছিল ও মানববন্ধন করছে। যারা আওয়ামীলীগ সমর্থিত তারা শ্রেণী কক্ষেই রয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে সোমবার থেকে প্রায় ৩ শতাধীকের বেশী ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রসায় এসে ক্লাস করতে শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ওয়াহাবুজ্জামান ঝন্টু সাংবাদিকদের জানান, যারা আন্দোলন করছে তারা কেউ ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নয়। আরবী প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগ ও আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের মধ্যে যে মারামারি হয়েছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বর্তমান হাদিউজ্জামান সোহাগ বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মাদ্রাসাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কেশবপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগের উপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটি পেয়ে ভালুকঘর ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিনকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যারা আমার অনুমতি ছাড়া মানববন্ধন করেছে আমি পুলিশকে তাদের আটক করার জন্য বলেছি।