কেশবপুরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ॥ মহিলাসহ আহত ১০

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলাসহ ১০ জনকে আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ২ জন স্থানীয় চিকিৎসা নিয়েছে।

কেশবপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। আহত ওই ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার দশকাউনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেব শেখের ছেলে আব্দুল কুদ্দুসের সাথে একই গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক আলী শেখের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুস ও আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষে আহত হন আব্দুস কুদ্দুস শেখ (৪০), রাজ্জাক শেখ (৬০), শাহাজাদ হোসেন শেখ (৮০)। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেশবপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে উভয় পক্ষ জানান। এদিকে আপন ভায়ের হাতে মারপিঠের শিকার হয়ে জুয়েল হোসেন সরদার (২৫) নামের এক যুবক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামের সাহেব আলী সরদারের ছেলে জুয়েল হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আমার আপন ভাই মিজানূর রহমান সরদার ও সানোয়ার সরদারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে আমার আপন ভাই মিজানূর রহমান সরদার ও তার স্ত্রী রুমা বেগম, সানোয়ার সরদার, তার স্ত্রী ফরিদা বেগম মিলে লাঠি দিয়ে আমাকে বেদম মারপিঠ করে আমার বাম হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। এঘটনায় আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এব্যাপারে মিজানূর রহমান সরদারের মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলেও সে ফোন রিসিভ করে কথা না বলে ফোন কেটে দেয়। সেকারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন আহত হয়েছে।

এরমধ্যে ১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজন স্থানীয় চিকিৎসা নিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বায়সা গ্রামের জামির সরদারের ছেলে শাহিন সরদারের সাথে একই গ্রামের আকতাব সরদারের ছেলে রহমান সরদারের সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে আহত হন শাহিন সরদার (১৭) ও তুহিন সরদার (১০)। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেশবপুর থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছিল বলে উভয় পক্ষ জানান।

অন্যদিকে ছাগলে কলাগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ ৪ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজন স্থানীয় চিকিৎসা নিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার রাজনগর বাকাবর্শি গ্রামের বাবর আলী সরদারের ছেলে লুৎফর সরদারের একটি ছাগল বুধবার দুপুরে একই গ্রামের পীর আলী সরদারের একটি কলাগাছ লুৎফরের ছাগলে খেয়ে যায়। এই নিয়ে কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে আহত হন লুৎফর সরদার (৪০), পীর আলী সরদার (৪৫), তার ছেলে সেলিম সরদার (২৫), বৌমা আসমা বেগম (১৮)। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেশবপুর থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছিল বলে উভয় পক্ষ জানান।

error: লাল সবুজের কথা !!